ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে হলে হলে ভোটকেন্দ্রে কৃত্রিম লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভোট দেয়া ঠেকাতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি করে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
প্রায় প্রতিটি হলেই এই অবস্থা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘ লাইন থাকলেও তা সামনের দিকে এগুচ্ছে না।
বিভিন্ন হলে গিয়ে দেখা যায়, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। এই লাইন হলের গেটের বাইরের রাস্তা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। একটু পরপরই ঝটলা বাধছে। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ, সকাল থেকে দাঁড়িয়ে থাকলেও লাইন শেষ হচ্ছে না।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল, জিয়াউর রহমান হল, বিজয় ৭১ হল, মাস্টার দা’সূর্যসেন হলসহ বেশ ককেয়কটি হলে একইচিত্র দেখা গেছে।
বঙ্গবন্ধু হলে মোট ভোটার ১৭৯৯। বেলা ১১টা পর্যন্ত এখানে ভোট কাস্ট হয়েছে ৪০০। অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে আক্ষেপ করছেন। আদৌ তারা ভোট দিতে পারবেন কিনা তা নিয়েও তাদের শঙ্কা তৈরী হয়েছে।
আরও পড়ুন: ছাত্রলীগের পক্ষে সিল মারা ১ বস্তা ব্যালট উদ্ধার (ভিডিও)
ভোট দিতে দেয়া হবে কিনা সেই আশঙ্কায় নূরু
রোকেয়া হলে নিখোঁজ ৩টি ব্যালট বাক্স
অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের ছদ্মবেশে অনেক বহিরাগতরাও লাইনে অবস্থান করছেন। এছাড়া চেকিং, শৃঙ্খলারক্ষার দায়িত্ব পালন করছেন ছাত্রলীগ নেতকাকর্মীরা। সেখানে কোন স্বেচ্ছাসেবক কাজ করতে পারছেন না।
বঙ্গবন্ধু হলের একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমি সকাল থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু সামনে এগোতে পারছি না। শুরু থেকে যাদের লাইনে দেখেছিলাম, এখনও তারাই দাঁড়িয়ে আছেন। ভোট দিতে পারবো কিনা জানিনা।
তবে এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম জসিম উদ্দিন হল। এই হলের শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নেভোট দিতে পারছেন।

এদিকে সাধারণ শিক্ষার্থী পরিষদ, ছাত্রদল, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও স্বতন্ত্র প্যানেলের প্রার্থীরাও একই ধরণের অভিযোগ করেছেন।
কয়েকটি হলে কৃত্রিম জ্যাম তৈরী করেছে ছাত্রলীগ। বহিরাগতরাও এই ভোটদানে অংশ নিচ্ছে। এছাড়াও ছাত্রদলের প্রার্থীদের কেন্দ্রে প্রবেশে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাধা দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মেস্তাফিজুর রহমান।
এই ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হলের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও প্রাধ্যক্ষ এসএম মফিজুর রহমান বলেন, বাকি সময়ের মধ্যে ভোট সম্পন্ন করতে পারবো। আমরা লাইনের র্যা ন্ডম চেক করছি, কাউকে এমন পায়নি।
ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মেস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের বিভিন্ন প্রার্থীকে কেন্দ্রে ঢুকতে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। গেটগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোটা প্রশাসনের হওয়ার কথা থাকলেও আমরা দেখছি পুরো নির্বাচনের পরিবেশ ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে।”
আজ (১১ মার্চ) সোমবার সকালে হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ভোট কেন্দ্রের পরিস্থিতি দেখতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মেস্তাফিজুর আরও বলেন, “আমি এফ রহমান হলে গিয়েছিলাম, এখন মহসিন হলে আসছি। একই ধরনের পরিস্থিতি। ভোট কেন্দ্রে কৃত্রিম একটি লাইন তৈরি করে রাখা হয়েছে। লাইনে যারা দাঁড়িয়েছেন তারা অন্য ভোটারদের লাইনে প্রবেম করতে দিচ্ছেন না।”
তবে ছাত্রদলের অভিযোগকে ‘গুজব’ বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন। তিনি বলেন, “এখানে সবাই আছেন। লাইনে সবাই দাঁড়াতে পারবেন। লাইনে যারা দাঁড়াবে তারাই ভোটের সিরিয়ালে যাবে। যারা সাংগঠনিকভাবে দুর্বল, যাদের ভোটার নাই, তাদের এসব অভিযোগ বাংলাদেশে সারাজীবন গুজব বলেই চলে আসছে।”
হাজী মোহাম্মদ মহসিন হলের ভোটার ছাত্রলীগের সভাপতি ও ভিপি প্রার্থী রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।
এমবি





