বইমেলায় এসে আমার খুব ভালো লাগছে। এখানে এলে প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নেয়া যায়। এটা যে জীবনের মেলা। এবারের মেলা আরো পরিচ্ছন্ন এবং খোলামেলা মনে হচ্ছে। বাঙালির মিলিত প্রাণের উৎসব। বাংলার সবুজ শ্যামল প্রকৃতিকে এখানে দেখি। বইমেলায় এলে আমি যে মন্ত্রী সেটাই ভুলে যাই।

সত্যিকার একজন বই প্রেমিক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এবারের বইমেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বইমেলা সম্প্রসারিত হয়েছে বলেই এখানে এসে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারছে। যৌবনে আমি দু’একবার মেলায় এসেছি। তখন বারোয়ারী মেলা ছিল। এখন মেলা অনেক বড় হয়েছে। পাঠক ও বেড়েছে, প্রকাশকও বেড়েছে। ভালো লাগছে। আমি যখন সংস্কৃতিমন্ত্রী ছিলাম তখন রাত পর্যন্ত থাকতাম বইমেলায়।

নিজের বই সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, আমার লেখা প্রথম উপন্যাস ‘গাঙচিল’এ বছরও হিট। শুনলাম প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। এবার সাংবাদিকতা জীবন নিয়ে ‘যখন সাংবাদিক ছিলাম’এবং ‘পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু’বেরিয়েছে। এটা ১৯৯১ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল। পাঠক এটাকে গ্রহণ করেছে এবং দীর্ঘ ২৪ বছর ধরে পড়ছেন। এটাই আমার প্রথম বই। প্রকাশিত হওয়ার পর পাঠক পড়বে কী পড়বে না, এ নিয়ে শঙ্কায় ছিলাম। কিন্তু বইটাকে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করেছে। মূলত এর মধ্য দিয়েই আমি বই লেখার অনুপ্রেরণা পেয়েছি।

আপনি তো বেশ ক’বার মেলায় এলেন, বইমেলায় আপনাকেই তো বেশি দেখা যাচ্ছে; এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, মেলায় এলে আমি যে মন্ত্রী সেটাই ভুলে যাই। ভেতরটা তারুণ্যে উচ্ছাল হয়ে উঠে। মেলায় কে এল-গেল বিষয় সেটা নয়, সবাই যে যার কাজে-কর্মে ব্যস্ত। এটা যার যার মানসিকতা। আমি সেতুতেও আছি, দেশের কাজ করি। বইমেলায়ও আছি। আমি সব জায়গায় যাই। খেলার মাঠেও যাই।

গত বইমেলায় বিজ্ঞানলেখক অভিজিৎকে হারিয়েছি, কিছুদিন আগে দীপনকে, এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী নয় একজন লেখক হিসেবে বইমেলা নিয়ে আপনার কোনো শঙ্কা আছে কি- এর জবাবে মন্ত্রী বলেন, অভিজিৎ আর দীপনের ঘটনা দুঃখজনক।

তবে তেমন ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা কম। কারণ এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক বেশি জোরদার করা হয়েছে, আশাকরি এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। তার পরও নিরাপত্তার ভেতরেও কখন কোথায় কী ঘটে যায় বলা মুশকিল। কথাটা আমি প্রায়ই বলি, আমাদের আকাশে মেঘ আসে, সরে যায়। হঠাৎ করে দেখা যাবে মেঘের আড়াল থেকে সূর্য হাসছে। গভীর অন্ধকারের মধ্যে হঠাৎ আলো জ্বলে উঠবে। কাজেই এ নিয়ে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

নিজের লেখা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী থাকতে লেখা সম্ভব না। সময় চুরি করে লিখতে বসতে হয়। তবে ভেতরে লেখার তাড়না থাকলে না লিখে উপায় আছে? কে যেন ভেতর থেকে লিখতে তাড়া দেয়।

কাদের লেখা এখনো পড়েন জানতে চাইলে মন্ত্রী কাদের আরো বলেন, আমি সৈয়দ শামসুল হক, শামসুর রাহমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, সুনীল, শীর্ষেন্দু, বুদ্ধদেব গুহের বই পড়ি। তিনি বলেন, আমি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল দুটোই পড়ি। আমাদের রবীন্দ্রনাথ-নজরুল দুজনকেই দরকার। একজন বিদ্রোহের, একজন প্রেমিক। জীবনের জন্য প্রেম এবং বিদ্রোহ দুটোরই প্রয়োজন আছে।

এবি সিদ্দিক