১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালিন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহামান। ৩৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে দুই দিনব্যাপী নানা কর্মসূচী পালিত হচ্ছে।
তবে প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে কাউকে প্রতিষ্ঠতার নাম উল্লেখ করতে দেখা যায় নি। বরং প্রতিষ্ঠতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম  উল্লেখ্য করায় জিয়া পরিষদের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা নেতার বক্তব্য সংক্ষেপ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে জিয়াউর রহামানের নাম উল্লেখ্য না করেই বক্তব্য শেষ করেছেন কেন্দ্রীয় জিয়া পরিষদের ভারপ্রপ্ত মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন।  এ নিয়ে ইবি জিয়া পরিষদের সকল ইউনিট এবং সাধারণ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

ক্যাম্পাস সূতে জানা যায়, সকাল ১০টায় ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারীর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যের সমন্বয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীতে বিভাগ, হল, ইবি শিক্ষক সমিতিসহ সকল শিক্ষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন, সেচ্ছাসেবী সংগঠন আলাদা আলাদা ব্যানারে অংশ নেয়। প্রধান র‌্যালী শেষে ইবি জিয়া পরিষদ একটি র‌্যালী নিয়ে জিয়াউর রহমান কর্তৃক স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তরে ফুলদিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ ও দোয়া মোনাতাজ করে।  

শোভাযাত্রা শেষে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত শুরু হয়। সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহের হোসেন নামে এক জিয়া পরিষদ সদস্য ইবির প্রতিষ্ঠতা হিসেবে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ্য করেন। উপস্থিত স্রোতারা জানান, জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ্য কারার সাথে সাথে তার বক্তব্য সংক্ষেপ করার জন্য অনুষ্ঠান পরিচালনা পরিষদকে চাপ দিতে দেখা যায়।

মোতাহের হোসেন তার বক্তব্যে বলেন, “ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের বাংলাদেশের স্বাধীনতার অগ্রদূত। এই সত্য কথা আমাদের সকলের স্বীকার করতে হবে। তাকে বাদ দিয়ে যেমন বাংলাদেশের অস্তিত্বের কথা চিন্তা করা যায় না তেমনি প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কথা বাদ দিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা ভাবা যায় না। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সত্য কথা বলতে আমার দ্বিধা নেই। আমি রনঙ্গনে দেখেছি দল মত ধর্ম নির্বিশেষে সকলে একসাথে যুদ্ধ করেছি কোন ভেদাভেদ ছিল না।’

স্রোতারা আরো জানান, পরবর্তীতে বক্তব্য দিতে আসেন ইবি শিক্ষক সমতিরি সভাপতি, জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন। বেশ হেসে-খেলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসসহ গৈরবময় নানা দিক তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তবে তিনি প্রতিষ্ঠতা জিয়ার নাম উল্লেখ্য না করেই তার বক্তব্য শেষ করেন। আলোচনাসভার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে, যা পরদিন ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

জিয়া পরিষদের একাধীক নেতা-কর্মী বলেন একজন কর্মকর্তা যখন সাহস নিয়ে জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করতে পারে তখন শিক্ষক সমিতির সভাপতি ,জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা যিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর হয়েও প্রতিষ্ঠতা জিয়ার নাম নিতে পারলেন এটা রহস্যবাহী। তিনি আসলেই জিয়ার সৈনিক না কি সুবিধাভোগী তা ভেবে দেখার বিষয়। তারা অভিযোগ করেন, ড. এমতাজ জিয়া পরিষদের র‌্যালীতেও যোগদেন নি।

হিমেল/এআই