জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা’র পদত্যাগের দাবিতে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করেছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতা-কর্মীরা।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতা ও পুলিশি হামলায় মদদ দেওয়ার অভিযোগে বুধবার ভোর সাড়ে ৫ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট পালিত হয়।
গত সোমবার বিশ্ববিধ্যলয়ের প্রান্তিক গেটে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে পুলিশ তাদের ১২ নেতাকর্মীকে আটক এবং পুলিশের হামলায় প্রায় ১৮ নেতাকর্মী আহত হওয়ার ঘটনায় প্রক্টরের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ এনে এ ধর্মঘট পালন করেন তারা।
ধর্মঘট চলাকালে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে নেতা-কর্মীরা সমাজবিজ্ঞান অনুষদের প্রধান ফটক আটকে রেখে বিক্ষোভ করে। পরে সাড়ে ১০ টার দিকে সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদে এসে শেষ হয়।
এরপর সংক্ষিপ্ত সমাবেশ থেকে একই দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার কালো ব্যাচ ধারণ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট জাবি শাখার সাধারণ-সম্পাদক সুস্মিতা মরিয়ম বলেন, তনুসহ সকল খুন-ধর্ষণ- গুমের বিচার দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্র জোট ও সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ছাত্র ঐক্য আহুত সোমবারের অর্ধদিবস হরতালে পুলিশস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেইটে শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা চালায়।
এসময় ছাত্র জোট ও ছাত্র ঐক্যের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শীর্ষ নেতাদেরসহ ১২ জনকে আটক করা হয়।
তিনি দাবি করেন, আটক ও হামলা চালানোর কিছুক্ষণ আগ পর্যন্ত প্রক্টর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে হামলা চালানোর সময় প্রক্টর সেখান থেকে হারিয়ে যান এবং সেই সময় প্রান্তিক গেইটের মূল ফটক বন্ধ করে দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার মধ্যে পুলিশি হামলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া সম্ভব নয়। ঘটনার কয়েক মিনিট আগে তার ঘটনাস্থল ত্যাগ করার ঘটনাটি প্রক্টরের নির্দেশনাকে আরও স্পষ্টভাবে প্রমাণিত করে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের সভাপতি দ্বীপাঞ্জন সিদ্ধান্ত কাজল, সাধারণ সম্পাদক আবিদ সরকার সোহাগ, ছাত্র ফ্রন্টের সংগঠক মশিউর রহমান, জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জুবায়ের টিপু, সাধারণ সম্পাদক শেখ রাহাত সহ অন্যান্য নেতা-কর্মীরা।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার একই দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন নেতা-কর্মীরা।
এমই





