জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেলের গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (২২ অক্টোবর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। উৎসব চলাকালীন এমনকি কনসার্টেও ছাত্রলীগকর্মীদের মাদক সেবন করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছে সভাপতি গ্রুপের জবি ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৬-২০১৭ সেশনের শিক্ষার্থী আবু সুফিয়ান ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের জবি নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-২০১৮ সেশনের শিক্ষার্থী হাসান নামের দুই ছাত্রলীগ কর্মী।

প্রতক্ষ্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে কনসার্ট চলাকালে মেয়াদত্তীর্ণ কমিটির সেক্রেটারি শেখ জয়নুল আবেদিন রাসেল গ্রুপের ১২ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর সাথে সভাপতি তরিকুল ইসলাম গ্রুপের বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর ধাক্কাধাক্কির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।

এরপর সভাপতি গ্রুপের কর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আক্রমণ করে সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের কর্মীদের। এতে আহত হয় সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের কর্মী হাসান। পরবর্তীতে আবারো সংঘবদ্ধ ভাবে সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের কর্মীরা আক্রমণ করে সভাপতি গ্রুপের কর্মীদের। এতে আহত হন সভাপতি গ্রুপের আবু সুফিয়ান। আহতের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাসায় নিয়ে যায় স্ব-স্ব গ্রুপের কর্মীরা।

প্রথম দফা সংঘর্ষের পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার তীব্র আকার ধারণ করলে সাধারণ সম্পাদক তার দলবল নিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বেড়িয়ে যান। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডি ও কতোয়ালী জোনের এসি বদরুল হাসান রিয়াদ ও থানার ওসির হস্তক্ষেপে ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে আনুমানিক রাত ১০টার দিকে জবি সহকারী প্রক্টর মোস্তফা কামালের সহযোগিতায় পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসকে কেন্দ্র করে দিনভর ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ বছর পদার্পনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু প্রায় ঘণ্টা দুয়েক পরেই দুই গ্রুপের কর্মীদের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তপ্ত হতে থাকে বিশ্ববিদ্যাল ক্যাম্পাস। এতে একসময় উৎসবে ভাটা পরে যায়।

জবির সাংবাদিকতা বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা সারাদিন ভালোভাবেই অনুষ্ঠান উপভোগ করছিলাম। বিকালের পরে শাখা ছাত্রলীগের মাতলামিতেই উৎসব যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।’

এদিকে ক্যাম্পাসের একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের নামে দিনভর ক্যাম্পাসে মাদক সেবক করে মাতলামিতে জড়িত ছিল ছাত্রলীগ নামধারী বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপনের সুষ্ঠ পরিবেশ বিনষ্ট হয়।’

এ বিষয়ে জবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ক্যাম্পাসে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝিতে এই ঘটনা ঘটে। আমরা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মিলে তা সমাধান করে দিয়েছি। এখন কোন সমস্যা নেই।’

এদিকে, আগামী দিনেও ক্যাম্পাসে একই ঘটনা নিয়ে নতুন করে ঝামেলায় জড়াতে পারে বলে শঙ্কা করছে প্রশাসন। এতে আগামী কর্ম দিবসে প্রক্টরিয়াল বডিকে সতর্ক অবস্থানে থাকার আহ্বান জানান তারা।