ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের শিক্ষক আবু নাসের মুহম্মদ সাইফ ৮০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী সুর্বণাআক্তার।

গত ৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা), সিন্ডিকেটের সদস্যবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যান এবং প্রক্টরের কাছে তার স্বামীর যৌতুক দাবির বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

সাইফের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবির কথা উল্লেখ করে অভিযোগপত্রে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ মুহম্মদ সাইফ সুবর্না আক্তারের বাবা ছিদ্দিক হোসাইন ও বোনের স্বামীর আবদুল্লাহ আল মামুনকে ঢাকা আসার অনুরোধ জানান। ঢাকায় আসলে এক রেস্টুরেন্টে সাইফের সঙ্গে তার বাবা ও বোন জামাই সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাতে তার বাবার নিকট ধানমন্ডিতে একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ৮০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করেন শিক্ষক সাইফ। কিন্তু তার বাবা ও বোনের জামাই যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে ওই শিক্ষক রেগে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করেন।

এছাড়া দাবিকৃত যৌতুকের টাকা না দিলে শিক্ষক সাইফ তালাকনামা পাঠানোর হুমকি দেন বলে ওই অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

যৌন নিপীড়নের লিখিত অভিযোগপত্রে এমআইএসের ইএমবিএ ১৯তম ব্যাচের ওই ছাত্রী আরও বলেন, পড়াশোনায় সাহায্য করার জন্য মুহম্মদ সাইফ ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ ভবনে তার কক্ষে (৬০১২নং) আমাকে প্রায়ই যেতে বলতেন। আমিও মাঝে মাঝে তার কক্ষে যেতাম। এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে গত বছরের ২৪ নভেম্বর তিনি আমাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাটি বন্ধু-বান্ধবদের জানাতে চাইলে তিনি আমাকে বিয়ে করতে প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর বেশ কয়েকবার দুই জন শারীরিক সম্পর্কে জড়াই। এর মধ্যেই কয়েকবার তাকে বিয়ে করতে অনুরোধ করলে তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নেপালে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে যোগদান শেষে দেশে ফিরে এসে বিয়ে করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন। সাইফ আমাকে নেপালেও নিয়ে যান এবং দুই জন একসঙ্গে হোটেলে ও তার বন্ধুর বাসায় থাকি।

গত ৪ মার্চ সাইফ ও ওই ছাত্রী বিয়ের এফিডেভিট করেন এবং ৫ মার্চ বিয়ে করেন। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে বাস করতে থাকেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগ সম্পর্কে মন্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআইএস বিভাগের প্রভাষক আবু নাসের মুহম্মদ সাইফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আমজাদ আলী বলেন, সম্প্রতি এ ধরনের একটি অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), সিন্ডিকেটের সদস্যবৃন্দ, ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে দিয়েছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়ে যেহেতু যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন রোধে সেল রয়েছে, সেহেতু সেটি তারা তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌন হয়রানি ও নিপীড়নরোধ কমিটির প্রধান ড. নাসরীন আহমেদ বলেন, এমন একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের ঘটনার জন্যে একটি সেল রয়েছে, সেহেতু সেলই তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবে। তবে বিষয়টি আগে সিন্ডিকেট কিংবা ডিনস কমিটির সভায় উঠতে হবে। সেখান থেকে দিক নির্দেশনা দিলেই সেলটি কাজ শুরু করবে।

তিনি ঘটনাটিকে নোংরামি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তারা দেশে-বিদেশে নোংরামি করে বেড়াবে আর বিপদে পড়লেই আমাদের দ্বারস্থ হবে।

অভিযোগ পাওয়ার ব্যাপারটি স্বীকার করে উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকবলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তা তদন্ত করার জন্য কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কেএইচ