রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড পাসের হারের দিক দিয়ে এবার সেরা। তবে গত পাঁচ বছরের মধ্যে এই বোর্ডে এবার পাসের হার সবচেয়ে কম। আর পিছিয়ে আছে কুমিল্লা বোর্ড। এবার ওই বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৫৯ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
এবারের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ।
গত পাঁচ বছরের ফলাফল থেকে দেখা যায়, ২০১৩ সালে এই শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৯৪ দশমিক ০৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ২০১৫ সালে কিছুটা কমে পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯৭ শতাংশ হলেও ২০১৬ সালে এসে তা দাঁড়ায় ৯৫ দশমিক ৭০ শতাংশ।
এবার সেই পাসের হার নেমে এসেছে ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশে। শুধু পাসের হারেই নয়, এই বোর্ডে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কিছুটা কমেছে। এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭ হাজার ৩৪৯ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এই শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৫৯৪।
এ ছাড়া শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও গতবারের চেয়ে এবার প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা ৪২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে। অথচ গত বছর এই সংখ্যা ছিল ৮০০। এ ছাড়া ২০১৫ সালে ছিল ৯৬৯টি এবং ২০১৪ সালে ছিল ১ হাজার ৫৫টি।
রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে এ বছর ১ লাখ ৬৬ হাজার ৯৩৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ছাত্রী ৮০ হাজার ২১৯ জন এবং ছাত্র ৮৬ হাজার ৭১৯ জন। বোর্ড থেকে মোট পাস করেছে ১ লাখ ৫১ হাজার ৪০৬ জন শিক্ষার্থী। শতকরা হিসাবে এটি ৯০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ছাত্রদের পাসের হার ৯০ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৯১ দশমিক ৪৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ হাজার ২৭৪ জন ছাত্রী এবং ৯ হাজার ৭৫ জন ছাত্র।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে একটার দিকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এই ফলাফল তুলে ধরেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তরুণ কুমার সরকার। এ সময় বোর্ডের সচিব আনোয়ারুল হক প্রাংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এবার সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে কুমিল্লা বোর্ড। ওই বোর্ডে এ বছর এক লাখ ৮৩ হাজার ৮০৬ পরীক্ষার্থীর মধ্যে এক লাখ ৮২ হাজার ৯৭৯ জন অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে এক লাখ আট হাজার ১১ জন। এর মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ৪৯ হাজার ৪৫৬ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ৫৮ হাজার ৫৫৫ জন।
গত বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৪ শতাংশ। গত বছর এক লাখ ৬০ হাজার ৫১৭ জন অংশ নিয়েছিল।
অন্যান্য বোর্ডের মধ্যে ঢাকায় পাসের হার ৮৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। যশোর বোর্ডে পাসের হার ৮০ দশমিক শূন্য ৪, চট্টগ্রামে ৮৩ দশমিক ৯৯, বরিশালে ৭৭ দশমিক ২৪, সিলেটে ৮০ দশমিক ২৬ ও দিনাজপুর বোর্ডে ৮৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
এমই





