জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের দেওয়া নিমন্ত্রন প্রত্যাক্ষান করে অবশেষে প্রতিষ্ঠানটির ক্যান্টিনে খাবার খেতে আসলেন না উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান।
রোববার দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত উপাচার্যসহ জবি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য খাবার নিয়ে বসে ছিলেন ছাত্র ইউনিয়ন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অপেক্ষা শেষে উপচার্য না আসায় শিক্ষার্থীরা সেখানে নানান সমালোচনা করে বক্তব্য দিতে থাকেন।
কর্মসূচি চলাকালে জবি ছাত্র ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক রুহুল আমিন বলেন " আমাদের কি কোনো আত্মমর্যাদা নেই?? আমরা কি কোনো মানুষ নই?? তিনি ( উপাচার্য) ও কোনো না কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছিলেন তবে কেন তিনি আমাদের সাথে খেতে পারেন না?
জবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আল-আমিন বলেন, "আমরা গত বুধবার ৮ ফেব্রুয়ারি ৪ সদস্যের প্রতিনিধি নিয়ে গিয়েছিলাম ভিসি স্যারের কাছে। উনাকে ক্যান্টিনে একবেলা আমাদের সাথে খাবারের আমন্ত্রণ দিতে, উত্তরে তিনি ( ভিসি) বলেন তুমি মাত্র ৪ জন নিয়ে এসেছ আমাকে আমন্ত্রণ দিতে?? আর তোমরা বললে বা আমি খেতে যাব কেন??
আল-আমিন দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ''আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও কি ভিসি কে খাবারের আমন্ত্রণ দিতে পারি না?? ''
জবি উপাচার্য ক্যান্টিনের খাবার গ্রহণ না করার প্রতিবাদে জবি ছাত্র ইউনিয়ন নতুন করে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জবির বিভিন্ন ভবনে ভবনে ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে চিত্রাঙ্কন ও গান পরিবেশন করবে বলে ঘোষণা করেন। পাশাপাশি আগামী রবিবার উপাচার্য ভবনের প্রধান ফটকের সামনে খাবার নিয়ে অপেক্ষা করা হবে বলে কর্মসূচি ঘোষণা করেন জবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি।
জানা গেছে, জবির বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রিত ক্যান্টিনের খাবারের মান বৃদ্ধি ও দাম কমানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছে শাখা ছাত্র ইউনিয়ন। জবির শিক্ষার্থীরা কি ধরণের নিম্নমানের খাবার খেয়ে থাকেন তা দেখানোর জন্য জবি উপাচার্যকে গত ৮ ফেব্রুয়ারি আমন্ত্রণ জানান ছাত্র ইউনিয়ন।
তারা সেখানে কি ধরণের খাবার খায় জবি উপাচার্যকে দেখানোর জন্য আমন্ত্রণ জানান। তখন উপাচার্য তাদের বলেছিলেন, তার ক্যান্টিনে যখন খুশি তখন আসবেন। তাই আশায় বুক বেধে জবি উপাচার্যের জন্য ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে বসে ছিল সংগঠনটি। প্রায় দেড় ঘণ্টা এ কর্মসূচি পালন করে তারা।
নাজমুল/এমএনজে





