বরিশালে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির (আইএইচটি) শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলা ও নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ  করেছে শিক্ষার্থীরা।

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা কমিটি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাসমূহ’র আয়োজনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে নগরীর বিভিন্ন  সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা প্রশাসকের বাংলোর সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি রাবেয়া খাতুন  সভাপতিত্ব করেন।

অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, আইসিডি’র নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার জাহিদ, মানবাধিকার জোটের জেলা সভাপতি ডা. সৈয়দ হাবিবুর রহমান, খেলাঘরের জেলা কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর চক্রবর্তী ও নারী নেত্রী নিগার সুলতানা হনুফাসহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করছে। সেখানে পুলিশের লাঠিচার্জ, বিশেষ করে ছাত্রীদের উপর নির্যাতন করা অমানবিক। এ ধরনের ঘটনা কখনোই কাম্য নয়।

এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনার জন্য দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান বক্তারা।

উল্লেখ্য,গত বুধবার সকালে বরিশালে আইএইচটির শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ  ব্যপক  লাঠি চার্জ করে।

তখন  শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। লাঠিচার্জ ও ইটের আঘাতে দুই পুলিশ সদস্যসহ ৩৩ জন আহত হন।

আইএইচটি শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো:

অবিলম্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এডুকেশন বোর্ড’ গঠন করতে হবে। শুধুমাত্র ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মেসি কোর্সের অন্তভূর্ক্ত হবে।

ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজি ও ফার্মাসিস্টদের তীব্র বেকার সমস্যা দূরিকরণের লক্ষ্যে যিড় কর্তৃক প্রদত্ত নীতিমালা অনুযায়ী নতুন নতুন পদ সৃষ্টি এবং স্থগিতকরা নিয়োগ চালু করতে যাবতীয় আইনগত সমস্যা জরুরি ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।

সরকারি চাকরিতে ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ২য় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তা পদমর্যাদা ও বেতন স্কেল দিতে হবে।

উচ্চশিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে সব আইএইচটিতে ফার্মেসি ও রেডিওথেরাপি সহ সব বিষয়ে বিএসসি ও এমএমসি কোর্স দ্রুত চালু করতে হবে।

গ্রাজুয়েট/ বিএসসি মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের হাসপাতাল ও চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ম শ্রেণীর পদ সৃষ্টি করে পদায়ন করতে হবে।

সেবা পরিদপ্তরের মতো মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মসিস্টদের জন্য আলাদা পরিদপ্তর গঠন করতে হবে।

ডিপ্লোমা মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ক্যারিয়ার প্লান বাস্তবায়ন করে পদোন্নতির ব্যবস্থা করতে হবে।

সরকারের সঙ্গে ১৯৮৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী ডিপ্লোমা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাকটিস রেজিস্টেশন দেওয়া এবং রেডিওলজি এন ইমেজিন্স, ল্যাব, ফিজিওথেরাপীতে ডিপ্লোমাধারীদেরকে নিজ কাজের ওপর স্বাক্ষর করার অনুমতি দিতে হবে।

মেডিকেল টেকনোলজিস্টদের জন্য 'Bangladesh University of Medical Seience and Technology' গঠন করতে হবে।

সব প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টার পরিচালনার জন্য প্রাইভেট চাকরির নীতিমালা প্রণয়ন এবং মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্ট নিয়োগ বাধ্যতামূলক করতে হবে।

এমকে