ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী বিভিন্ন নেতার নাম করে প্রতিদিন ফ্রি খেয়ে চলছে জগন্নাথ বিশ্ব‌বিদ্যালয় (জ‌বি) ছাত্রলী‌গের নামধারী কিছু কর্মী।

শুধু তাই নয় ফ্রি খেয়ে পরবর্তিতে হোটেল কর্মচারীকে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে জবি ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীর বিরুদ্ধে।

১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত ১১ টা নাগাদ পুরান ঢাকার জনসন রোডে অবস্থিত ‘স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্টে’ এই ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়।

হোটেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, জবি ছাত্রলীগের পদ প্রত্যাশী বিভিন্ন নেতার নাম করে প্রতিদিন ফ্রি খেয়ে চলছে ছাত্রলীগ নামধারী কিছু কর্মী।

কতৃপক্ষ জানায়,খাবার শেষ করে টাকা না দিয়ে দ্রুত সরে পড়েন এই সব কর্মীরা। মাঝে মধ্যে কাউকে থামিয়ে টাকা চাইলেও পরে দিব বা অমুক ভাইয়ের নামে লিখে রাখেন বলে কেটে পড়েন তারা কিংবা পাঁচ দশজন মিলে খেয়ে কয়েক হাজার টাকা বিল করে কয়েশ টাকা দিয়ে বের হয়ে যান।

প্রতিদিনকার মতো মঙ্গলবার রাতেও টাকা না দিয়ে বের হয়ে গেলে স্থানীয় এক ব্যক্তি জবি ছাত্রলীগের এক কর্মীকে ধরে হোটেলের সামনে নিয়ে আসে, তার কাছে ফ্রিতে খাওয়ার কারণ জানতে চান। এই খবর জানতে পেরে ছাত্রলীগ কর্মীরা রাস্তার পাশ থেকে রড, কাঠ নিয়ে এসে হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা এক কর্মচারীকে এলোপাথাড়ি পিটাতে থাকে। পরে হোটেলের ডিউটিরত ম্যানেজারের সাথে ধস্তাধস্তি করে এবং হোটেলে ভাঙচুর চালায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল বুধবার এই ধরণের ঘটনার প্রতিকার চেয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সাথে দেখা করে স্টার হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট কতৃপক্ষ। পরে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রক্টরিয়াল বডিকে সুষ্ঠু বিচারের নির্দেশ দেন।

ভিডিও ফুটেজ থেকে হামলাকারী কয়েকজন এর নাম জানা গেছে। তারা হলেন জবি হিসাববিজ্ঞান বিভাগের ১২ তম ব্যাচের ফারুক হোসেন এবং আরিয়ান আলভি (বর্তমানে রিএড), মেহেদী হাসান (১২ তম ব্যাচ,দর্শন বিভাগ), কিবরিয়া খান (১২ তম ব্যাচ)।

মেহেদী হাসান এবং কিবরিয়া খান জবি ছাত্রলীগ নেতা আল আমীনের কর্মী বলে জানা যায়।

এই বিষয়ে জবির সহকারী প্রক্টর ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমরা হামলার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

এসএম