সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। মেধাবীরা যেখানে পড়ালেখা করে ডাক্তার হয়ে বাবা-মায়ের, দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করার কথা, সেখানে তারা প্রতিনিয়ত ছাত্রলীগের নির্যাতনে হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই কেউ না কেউ তাদের নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।
সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর’১৪শিবির সন্দেহে ফাইনাল বর্ষের মেধাবী ছাত্র শাহরিয়ারকে লাইব্রেরী থেকে ডেকে নিয়ে নির্মম নির্যাতন করে পঙ্গু করে দেয়া হয়েছে। প্রতিদিনের মত বই নিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য লাইব্রেরীতে গেলে আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে ছাত্রলীগের কর্মী পঞ্চম বর্ষের অচিন্ত্য, সজীব তাকে জোরপূর্বক ডেকে মেইন হোস্টেলের টিভি রুমে নিয়ে গিয়ে ছাত্রলীগের কলেজ শাখার সভাপতি উপল, সাবেক সেক্রেটারীশাওন দাসের নেতৃত্বে নির্যাতন চালিয়ে হাত-পা ভেঙ্গে দেয়।
এ বর্বর নির্যাতনে তার মুখও থেতলে যায়। এ সময় সেখানে ছাত্রলীগের অচিন্ত্য, সজীব, জনি, স্বাধীন, এঞ্জেল, মাহফুজ, শামস, মজনু মিয়াসহ আরো অনেকে ছিল তার শরীরের বিভিন্ন স্থানেনির্যাতনের ভয়াবহ চিহ্ন রয়েছে।
ইতি পূর্বেও আরো অনেক নিরীহ ছাত্রকে নির্যাতন করে হল থেকে বের করে দেয়া হয়। এদের মধ্যে ১ম বর্ষের আতিক, সজীব, রানা, ২য় বর্ষের তওফিক ও মেহেদীরয়েছে। শুধুমাত্র নামায পড়ে এরূপ সন্দেহ করে এদের উপরও চালানো হয় নির্যাতন।
তাছাড়া সাধারণ ছাত্রদের বরাবরই হুমকি দিয়ে আসছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ ব্যপারে ছাত্রলীগ সভাপতি উপল ও সেক্রেটারী শাওনের সাথে কথা বললে তারা ঔদ্ধত্য আচরণ করে এবং পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে হুমকি দেয়।
এদিকে এ বিষয়গুলো কলেজ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর করলেও তারা এ ব্যাপারে রহস্যজনক নীরব ভূমিকা পালন করে। ফলে এই ধরনের ঘটনা প্রায় প্রতিনিয়তই ঘটছে। কলেজ অধ্যক্ষ দিলীপ কুমারধরও এ ব্যাপারে রহস্যজনক ভাবে ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠনের পক্ষে অবস্থাননিয়েছেন। ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলারও সাহস পাচ্ছেনা। সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা বর্তমানে খুবই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
এসএইচ





