জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানীর দায়ে অভিযুক্ত শিক্ষক একে এম আনিছুজ্জামানকে সাময়িক বহিস্কার করা হলেও পার পেয়ে গেলেন যৌন নিপীড়ক দর্শন বিভাগের ৩৯ তম আবর্তনের ছাত্র জাহিদ সুলতান লিখন।

গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত সিন্ডিকেটে অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিস্কার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ।

কিন্তু যৌন নিপীড়ক লিখনের ব্যাপারে ব্যাবস্থা নিতে সিন্ডিকেটে কোন আলোচনা হয়নি। জানা যায়, ভিকটিম ছাত্রী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছিল অব্যহতি পাওয়া শিক্ষকের ঘটনার আগে।

কিন্তু ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছেনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের কাছ থেকে।

গোপন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তের সাথে প্রক্টরের গোপন আতাত থাকার কারণে বিভিন্ন ধরনের কৌশল অবলম্বন করে উক্ত বিষয়টিকে সিন্ডিকেটে ওঠতে দেননি প্রক্টর ।

কারণ তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি আর শাস্তির সিদ্ধান্ত সমূহ এখানে পাস হয়ে সিন্ডিকেটে যায়।

অভিযুক্ত লিখন বিভিন্ন সময় একই বিভাগের এক ছাত্রীকে উত্তক্ত করে। ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সামনে ভিকটিম ছাত্রীকে উদ্দেশ্য করে অশোভন আচরন ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করে। মোবাইল ফোনে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে।

উক্ত বিষয় গুলো লিখিত ভাবে প্রক্টরের কাছে অভিযোগ করেন ভিকটিম শিক্ষার্থী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই যৌন নিপীড়কের লিখনের বিরোদ্ধে কোন ব্যাবস্থা গ্রহণ করেনি।

এদিকে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক রাশেদা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন,বিষয়টি তদন্তাধীন আছে। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া ২০১৩ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর অ্যাকাউন্টিং এ্যন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের প্রভাষক একে এম অনিছুজ্জামানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেন একই বিভাগের কয়েকজন ছাত্রী। এই বিভাগের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়ন বিরোধী সেলে উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম।

ঢাকা, ২৫ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, এসআর