রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) তিনটি হলে তাণ্ডব চালিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। সাধারণ ছাত্রদের ওপর নির্যাতন এবং হলের বেশ কয়েকটি কক্ষে ব্যাপক ভাংচুর করেছে তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ আমীর আলী হল, শাহ মখদুম হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে এসব ঘটনা ঘটে।
এসময় তারা তিন শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে ও এক শিবির নেতাকে পুলিশে দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। আটককৃতরা হলেন, গণিত বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষাথী ও সৈয়দ আমীর আলী হল শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিকুল ইসলাম ও মাঈন উদ্দিন এবং একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাসেল হোসাইন।
সৈয়দ আমীর আলী হল ও শাহমখুদ হলের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষার্থী জানান, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান, ছাত্রলীগ নেতা মাহবুবুর রহমান পলাশ, মেহেদী হাসান রাসেল, রানা চৌধুরী, মুস্তাকিম বিল্লাহসহ ১৫-২০ জন নেতাকর্মী শহীদ আমীর আলী হলের ২০৯ নম্বর কক্ষ গিয়ে হল শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদকে আটক করে। এ সময় তাকে মারধর ও তার কক্ষে ভাংচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে হল প্রাধ্যক্ষ এসে শিবির নেতাকে তার কক্ষে নিয়ে গেলে সেখানে শিবির নেতার ওপর চড়াও হয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এসময় হল প্রাধ্যক্ষ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের তাকে মারতে নিষেধ করলে হল প্রাধ্যক্ষকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এসময় প্রাধ্যক্ষের কক্ষে তাকে রাখলে কক্ষের দরজা ও জানালায় ভাঙচুর চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। পরে শিবির নেতাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। হলের ২১১ ও ৩০৫ নম্বর কক্ষেও ভাঙচুর চালায় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
এর কিছুক্ষণ পর রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি আতিকুর রহমান, শাহমখদুম হল ছাত্রলীগের সভাপতি আরিফ বিন জহির ও সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান কিরণের নেতৃত্বে কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী হলের ৩৪৭ ও ৩৫০ নম্বর কক্ষে ভাঙচুর চালায় এবং ৩৪৭ নম্বর কক্ষ থেকে শিবিরের বিভিন্ন বই উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও প্রতক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে থেকে মাগরিবের নামায শেষে বের হওয়ার পথে মাঈন উদ্দিন ও রাসেল হোসাইন নামের দুই শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে আটক করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
পরে তাদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সামনে আনা হয়। এরপর বঙ্গবন্ধু হলের সাদিকুল ইসলাম নামের আরেক শিক্ষার্থীকে শিবির সন্দেহে ধরে সেখানে নিয়ে আসেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের প্রায় আধা-ঘণ্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
রাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, আটককৃতরা সবাই শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এরমধ্যে একজন শিবিরের হল শাখার সাধারণ সম্পাদক। তার কক্ষ থেকে বেশকিছু জিহাদী বই পাওয়া গেছে। তারা ক্যাম্পাসে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল। তাই তাদের ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধ করেছে।
সৈয়দ আমীর আলী হল প্রাধ্যক্ষ প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ওই ছাত্রকে আমার কক্ষে নিয়ে আসলে হলে বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমাকে গালিগালাজ করে। এঘটনায় আমি উদ্বিগ্ন।
মতিহার থানায় অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত আশোক চৌহান বলেন, ছাত্রলীগ তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বর্তমানে তাদেরকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
এআর/ এআর





