করোনার প্রকোপে বিপর্যস্ত পুরো দেশ। প্রশাসনের দায়সারা ভাবের ফলে মেস ও বাড়ি ভাড়া নিয়ে যখন হলবিহীন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন ঠিক তখনই একের পর এক উদ্ভট মন্তব্য করে যাচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড.মীজানুর রহমান।

অপরদিকে মেস ভাড়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পাশ্ববর্তী থানায় অভিযোগ জানিয়ে সাহায্য পাওয়ার জায়গায় উল্টো বাড়তি হয়রানির মুখে পড়ছেন জবি শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন মেস মালিকরা ফোনকলে ভাড়ার জন্য তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের। ভাড়া কিছুটা মওকুফ কিংবা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে বাসা থেকে মালামাল বাহিরে ফেলে দেয়ার হুমকি দিচ্ছেন।

সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান উত্তেজিত হয়ে বলেন, “আমি মনে হয় সব থেকে গরিবের বাচ্চাদের নিয়ে এসে ভর্তি করেছি। তোমরা এত মিসকিন, নিজেদের আত্মমর্যাদা পর্যন্ত নেই। আমি কী বিজ্ঞাপন দিয়েছিলাম যে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে দরিদ্রদের ভর্তি করা হয়। এটা কি দরিদ্রদের এতিমখানা, মাদরাসা? তোমাদের তো আত্মমর্যাদা বলতে কিছু নেই, তোমাদের বিয়ে হবে না। বিয়ে করতে গেলে বলবে, তোমরা সব ফকির-মিসকিন।”

এসময় ড.মীজানুর রহমান আরো বলেন, “এখন তো খাওয়ার টাকা লাগছে না, কেএফসি যাওয়া লাগছে না, ‘মোটরসাইকেলের খরচ লাগছে না, বিড়ি-সিগারেট লাগছে না, রিক্সা ভাড়া লাগছে না, বান্ধবীরে আইসক্রীম খাওয়ানো লাগতেছে না। এসব টাকা দিয়ে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছ না কেন?”

উপাচার্যের এমন বিতর্কিত মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের এমন অস্বাভাবিক মন্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সকল জবিয়ানের কাছে তার দুঃখপ্রকাশ এবং পদত্যাগ দাবি করেছেন।

সোহেল/এমবি