বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারসহ ১০ দফা দাবিতে চতুর্থ দিনের মতো আন্দোলনে নেমেছেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

আজ (১০ অক্টোবর) বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বুয়েট ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় ১০ দফা দাবি আদায়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা।

শিক্ষার্থীরা ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘সন্ত্রাসীদের ঠিকানা এই বুয়েটে হবে না’, ‘জবাব চাই দিতে হবে’, ‘আমার ভাইকে মারলো কেন’, ‘ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই, প্রশাসনের কালো হাত ভেঙে দাও’, ‘আবরারের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

এর আগে গতকাল (৯ অক্টোবর) বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শহীদ মিনার চত্বরে মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করেন শিক্ষার্থীরা। এসময় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী হাতে মোম জ্বালিয়ে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন।

পরে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল পর্যন্ত কর্মসূচি সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়ায় গত রোববার (৬ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে খুন হন বাংলাদেশ প্রকেৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে শনিবার (০৫ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ফাহাদ।

এর জের ধরে রোববার রাতে শেরেবাংলা হলের নিজের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে তাকে ডেকে নিয়ে ২০১১ নম্বর কক্ষে বেধড়ক পেটানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আবরার। পিটুনির সময় নিহত আবরারকে ‘শিবিরকর্মী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চালায় খুনিরা। তবে আবরার কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেছেন তার পরিবারের সদস্যসহ সংশ্লিষ্টরা।

হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ না রাখতে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে (ডিলেট) দেয় খুনিরা। তবে পুলিশের আইসিটি বিশেষজ্ঞরা তা উদ্ধারে সক্ষম হন। পুলিশ ও চিকিৎসকরা আবরারকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছেন।

এই ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে তার বাবা চকবাজার থানায় সোমবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। পাশাপাশি গঠন করেছে একটি তদন্ত কমিটিও।

এমবি