রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শফিউল ইসলাম খুনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নগরের ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন আহামেদসহ ২০ জনকে আটক করা হয়েছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মাহাবুবুর রহমান এ তথ্য জানান।

 

রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার বলেন, শফিউল ইসলাম খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের আটক করা হয়েছে। নগরে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। রাজশাহীর বাইরেও দুটি দল অভিযান চালাচ্ছে।

 

আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আনসার আল ইসলাম বাংলাদেশ-২ সংগঠনের কেউ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত তদন্তের স্বার্থে তিনি বলতে চাচ্ছেন না।

 

রাজশাহী মহনগর পুলিশের উপকমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। নগরের বিনোদপুর এলাকায় জামায়াতের মিছিল-মিটিং সংগঠিত করার ব্যাপারে তার ভূমিকা রয়েছে।

 

গতকাল শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের চৌদ্দপায় নিজের বাসার সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলামকে (৫১) কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হিয়াতপুরে।

 

এর আগে গত এক দশকের মধ্যে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুজন শিক্ষক দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারান। ২০০৪ সালে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইউনুসকে। আর ২০০৬ সালে খুন হন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এস তাহের।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. একে এম শফিউল ইসলাম হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রাজশাহী ইসলামিয়া কলেজের অধ্যক্ষ হুমায়ুন আহমেদকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রোববার দুপুর ২টার দিকে নগরীর ডাসমারী এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার বিকেল চারটার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

জেএ