কেন্দ্রীয় কারাগারের জায়গায় শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক হল নির্মাণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্বারকলিপি দিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে পদযাত্রা করছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায় পুলিশ।

এ ঘটনায় অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পুলিশের দাবি শিক্ষার্থীদের ঠেকাতে ফাঁকা টিয়ারসেল ছোড়া হয়েছে। আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রক্টর অফিস।

এদিকে স্মারকলিপি প্রদানের পদযাত্রায় পুলিশী হামলার প্রতিবাদে আগামী ২৩ ও ২৪ আগস্ট ক্যাম্পাসে ধর্মঘট আহ্বান করেন শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্মারকলিপি প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে রওনা হন শিক্ষার্থীরা। রায় সাহেব বাজার মোড় অতিক্রম করার সময় শিক্ষার্থীদের আটকে দেয় পুলিশ। পরে শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে সামনে যায়। শিক্ষার্থীরা বংশাল মোড়ে হোটেল আব্দুল রাজ্জাকের সামনে পৌঁছুলে পুলিশ সেখানে আটকে দেয়। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করতে চেষ্টা করলে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট ছোড়ে। এ সময় পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে।

সাধারণ শিক্ষার্থীরা এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাবি করেন, এতে অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এরপর শিক্ষার্থীরা তাঁতিবাজার মোড়ে অবস্থান নিয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। এতে সদরঘাট-গুলিস্তান, ধোলাইখাল-নয়াবাজর সড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পুরান ঢাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

এদিকে ছাত্র ধর্মঘটে একাডেমিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। পূর্বঘোষিত পরীক্ষায় অংশ নিতে আসছে না শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বন্ধ হয়ে গেছে। পরীক্ষা এবং ক্লাস বন্ধ থাকায় সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, হল শিক্ষার্থীদের নৈতিক দাবি। শিক্ষার্থীদের এ দাবি মেনে নিয়ে ক্লাসে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে। তা না হলে বড় ধরণের সেশনজটে পড়বে শিক্ষার্থীরা।

হামলার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছানোর ব্যাপারে আগেই শিক্ষার্থীদের জানিয়েছি, কার্যালয় অভিমুখে সবাইকে যেতে দেয়া হবে না। একটি প্রতিনিধি দলকে আমরা পৌঁছে দিব। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তাদেরকে আটকে দেয়া হয়েছে।

এআই