জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই দর্শনার্থী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার সময় বাধা দেওয়ায় এক শিক্ষককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগের তিন কর্মীর বিরুদ্ধে।
ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মোজাহিদুল ইসলাম বলছেন, বৃহস্পতিবার বিকালে চৌরঙ্গী মোড়ে ওই ঘটনা নিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেন সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪০তম আবর্তনের আবু সাদাত মো. সায়েম, ৪৩তম আবর্তনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের জামশেদ আলম ও বাংলা বিভাগের জাহিদ হাসান।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুল ইসলামের ‘অনুসারী’ এই তিনজন আল বেরুনী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেল বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বিষয়টি শোনার কথা জানিয়ে বলেছেন, বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অধ্যাপক মোজাহিদুল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিকালে রিকশায় করে চৌরঙ্গী মোড় দিয়ে যাচ্ছিলাম। সেসময় সায়েম একটি মেয়ের ওড়না ধরে টানাটানি করছে দেখে রিকশা থামিয়ে ধমক দিয়ে তা থামাতে যাই। এসময় মেয়েটির সঙ্গে থাকা এক ছেলেকে মারধর করছিল জামশেদ ও জাহিদ।”
তিনি বলেন, “তাদের থামতে বলায় তারা আমাকে ঘিরে ধরে অশোভন আচরণ করতে থাকে। আমি তাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক পরিচয় দিলে সায়েম বলে, শিক্ষক হইছেন তো কী হইছে? এক পর্যায়ে তাদের একজন আমাকে মারতেও উদ্যত হয়।”
এসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুরশিদুর রহমান ও তার বিভাগের এক ছাত্র তাদের হাত থেকে তাকে ‘উদ্ধার’ করেন বলে জানান অধ্যাপক মোজাহিদুল।
এ বিষয়ে সায়েম, জামশেদ ও জাহিদের বক্তব্য জানতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। তাদের হলের ‘বড়ভাই’ ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আরিফুলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্যার তাদেরকে গালি দিয়েছে বলে শুনেছি। তারা স্যারের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে- এরকম কিছু শুনিনি।”
‘গালি দেওয়ার’ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক মোজাহিদুল বলেন, “আমি শিক্ষক; গালি দেওয়ার প্রশ্নই আসে না। তাদের অভিযোগ মিথ্যা। আমি শুধু ধমক দিয়ে তাদের থামতে বলেছি।
“অন্তত একজন শিক্ষক হিসেবে হলেও একজন নারী শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছনার হাত থেকে বাঁচাতে পেরেছি- এটাই বড়। আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব ‘যৌন সন্ত্রাসীর’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিব বলেন, “ছাত্রী লাঞ্ছনার বিষয়ে আমি শুনিনি। তবে এ ধরনের অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, “বিষয়টি শুনেছি; বিস্তারিত জেনে ব্যবস্থা নিব।”
ছাত্রলীগকর্মী সায়েমের বিরুদ্ধে এর আগেও ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের মারধর ও হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছিলেন, ২০১৫ সালের এপ্রিলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরতে আসায় তিনি ও তার স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করেন সায়েম। ঘটনার বিচার চেয়ে তারা প্রক্টরের কাছে অভিযোগও করেছিলেন।
অপর দুই ছাত্রলীগকর্মী জামশেদ ও জাহিদের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে ‘ছাত্রলীগ না করায় চুরির অপবাদ দিয়ে’ হল থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত পহেলা বৈশাখের সন্ধ্যায় হলে ফেরার সময় সালাম-বরকত হলের একদল ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীর হাতে যৌন নিপীড়নের শিকার হন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী।
পরে বিচার চেয়ে ওই ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত শেষে পাঁচ ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিরতরে বহিস্কার করে কর্তৃপক্ষ।
এমএম





