রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আগামী ৭, ৮ ও ৯ জুন সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র “ছুঁয়ে দিলে মন” প্রদর্শণ করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সংগঠন ‘রলিক মিডিয়া প্রডাকশন’। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিভাবে বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র নজরুল মিলনায়তনে প্রদর্শনের অনুমতি দিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
এমন কি সমাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও সমলোচনার ঝড় উঠেছে। আয়োজক কমিটির নেতারা বলছেন, এটা বাণিজ্যিক ধারার চলচ্ছিত্র ঠিক আছে, তবে এখানে শিক্ষাণীয় অনেক দিক আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আগামী ৭,৮,ও ৯ তারিখে বিকাল ও সন্ধ্যায় শিহাব শাহীন পরিচালিত “ছুঁয়ে দিলে মন” এই চলচিত্র প্রদর্শন করতে যাচ্ছে রলিক মিডিয়া প্রডাকশন। ইতোপূর্বে যেখানে বিভিন্ন সময় মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাস-ঐতিহ্য বা শিক্ষানীয় স্বল্প দৈর্ঘ্য চলচিত্র প্রদর্শণী হয়ে থাকে। এছাড়া মানবীয় দিক বিবেচনা করে ফান্ড কালেকশনের জন্য চলচিত্র প্রদর্শনী হয়ে থাকে।
তবে এই চলচিত্রটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ধারার। বিগত সময় কখনো এমন চলচিত্র প্রদর্শিত হয়নি। এদিকে বাণিজ্যিক ধারার চলচিত্র ক্যাম্পাসে প্রদর্শনীর ঘোর বিরোধীতা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় সচেতন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। অনেকে বলছেন মূলত ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা এই চলচিত্র প্রদর্শন করছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনী বলেন, বাণিজ্যিক মুভি ক্যাম্পাসে প্রদর্শন করা উচিত নয়। আর প্রশাসন কিভাবে তাদের এই প্রদর্শনীর অনুমতি দেয়, আমি এটা বুঝি না? এছাড়া রাতের আধারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করেছে, এটাও ঠিক না।
এদিকে সরেজমিনে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে, পাশ্ববর্তী এলাকাগুলো ও প্রতিটি আবাসিক হলের গেটের সামনে এবং হলের ভিতরে বড় বড় পোস্টার লাগানো হয়েছে। এদিকে হলের ভিতরে এই ধরনের বাণিজ্যিক চলচিত্রের পোস্টারে দেখে অনেক শিক্ষার্থীকে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আসাদুল হক নামে এক শিক্ষার্থী লেখেন, "রাতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে ঢুকতেই চোখে পড়ল গেইটের ডান দিকে বিশাল পোস্টার লাগানো। দেখেতো চোখে ছানি পড়া অবস্থা। একটা ছবির পোস্টার লাগানো। পাশে আরও কয়েকটি পোস্টার রয়েছে। ছবির নাম 'ছুয়ে দিলে মন'। গেইটে দায়িত্বে থাকা রন্জু ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম কি অবস্থা? তিনি কোন কিছুই বলতে পারলেন না। অন্য হলগুলোতে একই অবস্থা কিনা জানি না। তবে এই ধরনের কাজ নেহায়েত সমর্থনযোগ্য যেমন নয়, তেমনি ঘৃণারও বিষয়। পোস্টার লাগাবেন ভাল কথা শেষ পর্যন্ত হলের গেইটে?"
তিনি আরো লেখেন, "আবার শুনলাম নাকি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ঐ ছবি দেখানো হবে। এটা কোন ধরনের ফাজলামি। হ্যাঁ, আমরাও মিলনায়তনে ছবি দেখেছি আর তা ছিল শিক্ষামুলক অথবা ইতিহাস ভিত্তিক ছবি বা ডকুমেন্টারি। এতে কোন দোষ নেই। কিন্তু এভাবে বাণিজ্যিক ছবি প্রদর্শন করতে হবে কেন?"
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী কোন ভাবেই কাম্য নয়। এটা সুস্থ ধারার সাংস্কৃতির জন্য হুমকি স্বরুপ।’ তবে কে বা কারা প্রদর্শনীর অনুমতি দিয়েছে এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে টিএসসি'র পরিচালক টি এম এম নূরুল মোদ্দাসের চৌধুরী বলেন, তারা এক শিক্ষকের সুপারিশ নিয়ে আসছিল, যার কারণে আমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের অনুমোদন দিয়েছি।
তিনি আরো বলেন, আমাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকার কারণে এমনটা হচ্ছে। আগামীতে মিলনায়তন বরাদ্দের ব্যাপারে নীতিমালা করা হবে।
রলিক মিডিয়ার পরিচালক এম কবির বলেন, এটা বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র ঠিক আছে। তবে এই চলচ্চিত্রের কথাপোকথন থেকে শুরু করে সব কিছুর মধ্যে শেখার অনেক কিছু আছে। এছড়া এই মুভির সাথে জড়িত কলা-কুশলীরাও এখানে আসবেন।
জেডআই





