চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের হামলায় এক ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের একটি অংশ অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত কর্মকর্তা জানান, চকবাজার এলাকায় অবস্থিত মেডিকেল কলেজ ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুইপক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলায় এক ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ চার শিক্ষার্থী আহত হয়। রাতে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছাত্রলীগ নেতা এম সায়েম জানান, চমেক হাসপাতাল থেকে ডিউটি শেষ করে চকবাজার থানায় অভিযোগ দিয়ে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ডা. ওসমান ও ছাত্র সংসদের সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক সানির ওপর হামলা চালায়। এর আগে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল ছাত্রাবাসে হামলা করে চারজন ছাত্রকে আহত করে। সন্ত্রাসীরা এ সময় হকিস্টিক, রড ও কাচের বোতল ব্যবহার করে বলে জানায়।

এ ঘটনার প্রতিবাদে সকালে ছাত্রলীগের একটি অংশ হাসপাতাল ও কলেজের প্রবেশপথ বন্ধ করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও ছাত্রলীগের একটি অংশ। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গোলচত্বর এলাকায় অবস্থান ধর্মঘট পালন করে।

বক্তারা এ ঘটনার জন্য ছাত্রলীগের আরেকটি অংশকে দায়ী করে। পূর্বপরিকল্পিতভাবে তারা হামলা করেছে বলে দাবি করেন। অবিলম্বে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. হুমায়ুন কবির বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকসহ চার শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে আহত হয়েছে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক আমাকে মধ্যরাতে এ খবর জানান। এরপর চমেক অধ্যক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহতদের রাতে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে চমেক হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা কাজ করছে।’

পরিচালক জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার ৮১ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালে যোগ দিয়েছেন। এর আগে গত ৩১ জুন থেকে কাজ শুরু করেন ৮৬ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৬৭ জন। চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করে না। তারা কাজ শিখছে মাত্র।

এমআর