বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে এখনও কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। যদিও পূর্বের ভিসি পদত্যাগের ৪৪ দিন অতিবাহিত হয়েছে।

জানা গেছে, ভিসির স্বাক্ষরের অভাবে বেতন, ভাতা না পাওয়ায় ক্ষোভ বিরাজ করছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে।

দেশের অন্যতম কৃষি শিক্ষার এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও একাডেমিক কর্মকান্ডে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে বুধবার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে এক ঘণ্টার কলম বিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা।

গত ৭ এপ্রিল দুর্নীতি ও নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগে আওয়ামী পন্থী শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল হক। এরপর ভিসি হিসেবে এখনও নতুন কোন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি।

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা এপ্রিল মাসের বেতন ভাতা তুলতে পারেননি। এছাড়াও নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষা চললেও শিক্ষার্থীদের স্টাইপেন্ড উত্তোলন, সনদপত্র, বিদেশ গমনে ছুটি, শিক্ষা সফরসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এদিকে দীর্ঘ সময়েও ভিসি নিয়োগ না হওয়ায় দ্রুত নিয়োগের দাবিতে গতকাল বুধবার এক ঘন্টা কলম বিরতি পালন করেছে শিক্ষক সমিতি।

গতকাল বেলা ১১ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ কর্মবিরতি পালিত হয়। শিক্ষক সমিতির এক সাধারণ সভায় এ কলম বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানান সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার।

এ বিষয়ে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. খন্দকার শরীফুল ইসলাম বলেন, সরকার এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নেয় কিনা তার জন্য আমরা বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি এর মধ্যে উপাচার্য নিয়োগ না দেওয়া হয় তাহলে আমরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতিসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরাও টানা তৃতীয় দিনের মত পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করেছে।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী বুধবার সকাল থেকে বিভিন্ন অনুষদ, হল ও খামার এলাকা থেকে কর্মচারীরা নিজ নিজ সমিতির কার্যালয়ের সামনে এসে জড়ো হতে থাকেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

কর্মচারী সমিতির নেতারা বলেন, প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে বেতন পাওয়ার কথা থাকলেও আমরা এপ্রিল মাসের বেতন এখনও পাইনি। ফলে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বেতন-ভাতা দ্রুত পরিশোধ না করলে লাগাতার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তারা।

এছাড়াও ভিসি নিয়োগসহ দ্রুত বেতন পরিশোধের দাবিতে গতকাল ক্যাম্পাসে অর্ধদিবস সব ধরনের ছোট যান চলাচল বন্ধ করে দেয় কারিগরী কর্মচারী সমিতি।

এমকে