ক্যাম্পাসের গাছ কাটার টেন্ডার নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে এক সাংবাদিকসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা থেকে ৫টা পর্যন্ত এইসব জখমের ঘটনা ঘটে।
জখম হওয়াদের মধ্যে আছেন সাংবাদিক এবং ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মো. আলমগীর হোসেন মিজান, ছাত্রলীগের বহিষ্কৃত উপ ক্রীড়া সম্পাদক এবং সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুর রহিম জুয়েল এবং প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা ও ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আবু সাঈদ।
সূত্র জানায়, ক্যাম্পাসে ঝড়ে পড়া এবং মরে যাওয়া বিভিন্ন গাছ কাটার জন্য দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে একটি টেন্ডার অনুষ্ঠিত হয়। সেই টেন্ডারটি আব্দুর রহিম জুয়েল এবং কামাল উদ্দীন হলের অপর ছাত্রলীগ নেতা জুয়েল রানার অনুকূলে যায় বলে জানা যায়।
পরে দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনের রাস্তায় টেন্ডারের ভাগবাটোয়ারা নিয়ে নিজেদের মধ্যে বাক-বিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে জুয়েল রানাসহ কামাল উদ্দীন হলের ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা আব্দুর রহিম জুয়েলকে মারধর করে চলে যায়।
এ খবর আব্দুর রহিম জুয়েলের আবাসিক হল মীর মশাররফ হোসেন হলে পৌঁছলে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা সাড়ে ৩টার দিকে কামাল উদ্দীন হলে আক্রমণ চালাতে আসে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংক্ষিপ্ত সংঘর্ষ হয়।
সংঘর্ষের ছবি তুলতে গেলে মীর মশাররফ হোসেন হলের ছাত্রলীগ কর্মীরা সাংবাদিক আলমগীর হোসেন মিজানকে মারধর করে জখম করে। এ সময় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মো. জনি আলমকেও লাঞ্ছিত করা হয়। পরে ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান জনি এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহমেদ রাসেলের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
এর কিছুক্ষণ পর সালাম-বরকত হলের পাশ দিয়ে মীর মশাররফ হলের কিছু ছাত্রলীগ কর্মী হঠাৎ হামলা চালিয়ে পালিযে যায়। এ সময় পথচারী হিসেবে যাওয়া আবু সাঈদকে মারধর করে জখম করে তারা।
পরে দুই পক্ষের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপে ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা নিজ নিজ হলে ফিরে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর সংঘর্ষের ঘটনায় প্রক্টর টিমকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
তবে ঘটনার সময় প্রক্টর টিমের কাউকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাওয়া যায়নি।
কেএইচ





