অনেক ঝামেলা ও পেরেশানির স্বীকার হয়ে আবাসিকতা নিশ্চিত করে হলে নিয়মিত সিট ভাড়ার টাকা দিয়েও হলে উঠতে পারছেনা অনেক শিক্ষার্থী। অথচ সেসব সিটে উঠে রয়েছে অনাবাসিক অবৈধরা। কারো কারো আবার নেই ছাত্রত্ব। দলীয় লেজুড়বৃত্তি প্রশাসনের নিরবতা ও পেশীশক্তি দিয়েই তারা অবৈধভাবে আধিপত্য বিস্তার করছে হলে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ যেন মামুলি এক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে! ভুক্তভোগী বৈধ সিট না পাওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, হল প্রশাসনের কাছে সিটের বিষয়ে কথা বলতে গেলে তারা নিজেরাই অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে। কার্যত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে মাসের পর মাস সিটের ভাড়া দিয়েও সিটে উঠতে পারছেন না তারা।

ইতিহাস বিভাগের ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সারোয়ার হোসাইন টাইমনিউজকে জানায়, জানুয়ারি ২ তারিখ আবাসিকের বৈধতা নিয়ে "শের ই বাংলা " হলে উঠেছিলাম। গত ১৩ তারিখ ব্যক্তিগত কাজে বাড়ি গেলে ১৪ তারিখ রাতে জানতে পারি যে, আমার বেডিংপত্র সরিয়ে নতুন ২ জন ছাত্রকে উঠানো হয়েছে। এমন আকস্মিক বিষয় জানার পর ১৫ তারিখ হল প্রভোস্ট মোস্তফা তরিকুল আহসান স্যারকে জানালে তিনি আমার সিট ফিরিয়ে দেয়ার আশ্বাস দেন। পরেরদিন উনার সাথে আবার যোগাযোগ করলে তিনি "শেরে ই বাংলা " হলে দায়িত্বে থাকা ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। সাদ্দাম হোসেনের সাথে বারবার যোগাযোগে ব্যর্থ হয়ে সবকিছু নিয়ে বাড়ি চলে যেতে বাধ্য হলাম।

হিসাববিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান, ।দেড় বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা হলে ১১৬ নম্বর কক্ষের সিটের ভাড়া দিচ্ছেন। হল প্রশাসন সিটের ভাড়া নিলেও নোমানকে কোনো সিট দিতে পারেনি। এ ঘটনা শুধু নোমান বা সারওয়ারের নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীই হলে সিট ভাড়া দিয়েও সিটে উঠতে পারছেনা।

গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১ তারিখ থেকে মার্চ মাসের ১৯ তারিখ পর্যন্ত হলগুলোতে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের ১১ টি আবাসিক হলে মোট ৫৭৫ সিট অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দখলে রয়েছে। শিক্ষার্থী সিটভাড়া দিয়েও হলে উঠতে পারেনি। এর মধ্যে সর্বাধিক সংখ্যক নবাব আবদুল লতিফ হলে ৯৫টি সিট অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের দখলে রয়েছে। এছাড়া শাহ মখদুম হলে ৪৫ টি, আমীর আলী হলে ৪৩টি, শের-ই বাংলায় ৬৫টি, বঙ্গবন্ধু হলে ৭০ টি, মাদারবখশে ৪৩ টি, জোহা হলে ৫৪ টি, সোহরাওয়ার্দীতে ৬১ টি, জিয়া হলে ৩৮ টি, হবিবুর রহমান হলে ৪১টি, মতিহার হলে ২০টি সিট অবৈধ দখলে আছে।

যারা এসব সিটে থাকছেন তারা হল প্রশাসন থেকে সিট বরাদ্দ না পেয়েই হলে উঠেছেন। ফলে এসব সিট যেসব শিক্ষার্থী বরাদ্দ পেয়েছেন তারা ভাড়া দিলেও হলে উঠতে পারছেনা। আর এসব বেদখল সিটের ৫০৩ টি সিট দখল করে আছে ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা। তাদের ক্ষমতার জোরেই প্রথম ও দ্বিতীয়বর্ষের শিক্ষার্থীরা এসব সিট অবৈধভাবে দখলে রেখেছে। এছাড়া বাকি ৭২টি সিট অন্যান্য রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী এবং কয়েকজন সাংবাদিক অবৈধভাবে দখল করে রেখেছে।

মহিদুল ইসলাম নামের চতুর্থবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, তিন মাস আগে মাদারবখশ হলে আমি সিট পেয়েছি। তখন থেকে ভাড়াও দিচ্ছি। কিন্তু এখনো সিটে উঠতে পারিনি। খোঁজ নিয়ে দেখেছি কেউ একজন আমার সিটটি দখল করে রেখেছে। হল প্রশাসনকে জানালেও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমাকে যদি তারা সিট না দিবে তবে ভাড়া কেন নেয়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আনন্দ কুমার সাহা এ বিষয়ে বলেন, কোনো শিক্ষার্থী হলের সিট ভাড়া দিলেও উঠতে না পারাটা দুঃখজনক। কারা এসব সিট দখল করে রেখেছে হল প্রভোস্টরা কোনোদিন আমাকে জানায়নি। তারা যদি আমাকে বিষয়টি জানায়, তবে আইনী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রাশেদুল আলম/এসএম