চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত হওয়ায় শঙ্কায় পড়েছেন আবেদনকারীরা।  ২০১২ সালে আয়োজন করেও শেষ পর্যন্ত বিশেষ সমাবর্তন না হওয়ায় এ শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

২১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সমাবর্তন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল।  কিন্তু সোমবার(৩০ নভেম্বর) আবেদনের শেষ দিনে আকষ্মিকভাবে এটি স্থগিত করা হয়।

সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর আবেদনকারীদের অনেকেই বাংলানিউজকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।  তাঁদের আশঙ্কা তিনবছর আগের মত শেষ পর্যন্ত সমাবর্তন অনুষ্ঠান বাতিল হবে না তো?

২০১২ সালের শেষের দিকে মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সম্মানে ‘বিশেষ’ সমাবর্তন অনুষ্ঠান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে জোর প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছিল।কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমাবর্তন অনুষ্ঠান আর হয় নি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আবেদন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ওমর ফারুক বলেন, ‘প্রায় সাত বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান হচ্ছে। এ জন্য নানা বিড়ম্বনা সয়ে আবেদন করেছি। এ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আমরা বন্ধুরা আগাম প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু এখন সমাবর্তন স্থগিত করা হয়েছে। কখন হবে সেটাও বলা যাচ্ছে না। সমাবর্তন আদো হবে কিনা তা নিয়ে সঙ্কায় আছি।’

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবেদনের শেষদিন (৩০ নভেম্বর) পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০০ জন গ্রাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষার্থী সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করেছেন।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সম্মতি পেলেই চতুর্থ সমাবর্তনের নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) কামরুল হুদা বাংলানিউজকে বলেন, ‘২১ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ৩০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের দপ্তর থেকে আমরা একটা চিঠি পেয়েছি। চিঠিতে অনিবার্য কারণবশতঃ সমাবর্তন অনুষ্ঠান স্থগিত করার কথা বলা হয়েছে। এ কারণে ২১ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠান হচ্ছে না।’

তবে খুব শীগ্রই রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে সমাবর্তনের নতুন তারিখের ঘোষণা আসতে পারে এমন আশার কথা শুনিয়ে কামরুল হুদা আরও বলেন, ‘সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আবেদন করা গ্যাজুয়েট ও পদকপ্রাপ্ত সাবেক শিক্ষার্থীদের আশঙ্কার কিছু নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গত ১১ নভেম্বর থেকে চতুর্থ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে ২০০৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ পিএইচডি/ এম ফিল/ এম ডি, এমএস, এমফিল, এমপিএইচ (চিকিৎসা বিজ্ঞান)/ এমএ (ইআইটি)/ এমবিবিএস/ বিডিএস/ বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ডিজিও, ডিঅর্থ, ডিএলও, ডিসিও, ডিসিএইচ, ডিএ, ডিকার্ড, ডিডিডি (চিকিৎসা বিজ্ঞান) বিএসসি ইন নার্সিং (পোস্ট বেসিক/ পাবলিক হেলথ নার্সিং/ সাধারণ ডিগ্রি অর্জনকারীদের সনদ ও চ্যান্সেলর স্বর্ণ পদক বিজয়ীদের আবেদন করতে বলা হয়েছিল।

এমএ