আগামী ১০ মার্চ থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেও মিথ্যা মামলা নিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরা নিয়ে আতংকে রয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আন্দোলন দমাতে ক্যাম্পাসে ফেরার পর বিভিন্ন অজুহাতে তাদেরকে আটক করা হতে পারে বলে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা’ মামলা প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় ঘটনায় এক মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও ছাত্রলীগের কোন অস্ত্রধারী ক্যাডার আটক না হওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে সান্ধ্যাকালীন কোর্স পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রগতিশীল ছত্রেজোটের নেতা-কর্মীরা। তবে ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষার্থীরা যাতে ফের নতুন করে আন্দোলনে নামতে না পারে সেজন্য ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল প্রকার বর্ধিত ফি বাতিল ও সান্ধ্যকোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর যৌথভাবে হামলা চালায় ছাত্রলীগ ও পুলিশ।  এসময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ছোটাছুটি শুরু করলে পুলিশ ও ছাত্রলীগ ক্যাডাররা প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি বর্ষণ করেন।
এ ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা করা হলেও তাতে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের আসামী না করে আন্দোলনকারী কয়েকজন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭শতাধিক শিক্ষার্থীকে আসামী করা হয়েছে।
এদিকে হামলার সাথে জড়িত অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের আসামী না করে হামলার শিকার আন্দোলনকারী শত শত সাধারণ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অজ্ঞাতনামা আসামী করায় গ্রেফতার আতংকে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ক্যাম্পাস খোলার পর তারা গ্রেফতারের ভয় মাথায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরবেন কিনা তা নিয়ে এখনোও সন্দিহান। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগ ফের হামলা চালাতে পারে এমন ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী আবাসিক হলে না উঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মেসগুলোতে উঠবেন বলে জানা গেছে। অনেকে আবার ক্যাম্পাস পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি ভালোভাবে পর্যোবেক্ষণ করার পর ফিরতে পারেন বলে জানান।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল। অজ্ঞাতনামা করে মামলা করায় ক্যাম্পাসে আসার পর উদ্দেশ্যমূলকভাবে যেকোনো শিক্ষার্থীকে আটক করতে পারে পুলিশ। তাই ক্যাম্পাস খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
এদিকে গত ২ ফেব্রুয়ারির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি এখনও তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি। এতো দিনেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় প্রকৃত অপরাধী হিসেবে কে বা কারা জড়িত তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি। অভিযোগ উঠছে তদন্ত প্রতিবেদন ঝুলিয়ে রেখে প্রকৃত অপরাধীদর আড়াল করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদেরকে চাপে রাখতে চাইছে। যাতে ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষার্থীরা আর আন্দোলনে নামতে না পারে। তাছাড়া, ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষার্থীরা যাতে ফের নতুন করে আন্দোলনে নামতে না পারে সেজন্য ক্যাম্পাসে সব ধরনের মিছিল সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সিন্ডিকেট বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তবে সকল বাধা সত্বেও ক্যাম্পাস খোলার পর সান্ধ্যাকালীন কোর্স বাতিল ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি সুমন অগাষ্টিন সরেন বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে আমরা প্রশাসনকে ২টি দাবি জানিয়েছি। বর্ভিত ফি প্রত্যাহার করা হয়েছে কিন্তু সান্ধ্যকোর্স ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর যে মামলা করা হয়েছে তা এখনো প্রত্যাহার করা হয়নি। এ জন্য আমরা কয়েক দফায় প্রশাসনের সাথে বৈঠক করেছি। কিন্তু তারা আমোদের এ দাবির প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করেনি। আগামী ১০ মার্চের আগে যদি এ দাবি মানা না হয় তাহলে আবারো আমরা আন্দোলনে যেতে বধ্য হবো।
আন্দোলনকারি শিক্ষার্থী ও ছাত্র ফ্রন্টের সভাপতি সোহরাব হোসেন বলেন, ‘আমরা আমাদের দাবিতে অনড়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি আমাদের সকল দাবি দাওয়া মেনে না নিয়ে ক্যাম্পাস খুলে দেয় তাহলে আমরা আবারও আমাদের শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শুরু করে আন্দোলন অব্যহত রাখবো।
এ ব্যাপারে রাবি ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সাদেকুল আরেফিন মাতিন বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থী নয়, আমরা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে মামলা করেছি। যারা সন্ত্রাসী কার্যক্রমে লিপ্ত ছিল তাদেরকে আইনের অওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ২টি মামলা করা হয়েছে। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা যাতে কোন হয়রানির শিকার না হয় সে ব্যাপারে প্রশাসন সর্তক রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. তারিকুল হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের মূল দাবি বর্ধিত ফি প্রত্যাহার করে নেয়ায় নতুন করে আর আন্দোলনের সম্ভাবনা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতেই ক্যাম্পাস খোলার সিন্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের যথেষ্ঠ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় তাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার বা আতংকিত হওয়ার কোন কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি।
[b]রাবি,এনএন,৫মার্চ(টাইমনিউজবিডি)//এসএইচ
[/b]