শাবিতে ছাত্রীকে জড়িয়ে কটুক্তিকারী লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নাছির উদ্দিনকে চাকরিচ্যুত, পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমকে স্বপদ থেকে অব্যাহতি এবং যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত আবু সালেহ’র স্থায়ী বহিষ্কার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন অব্যাহত।
একই দাবিতে টানা ৫দিন বিক্ষোভ মিছিল, বিভাগের ক্লাস ও অফিসে তালা, অবস্থান ধর্মঘট, মানববন্ধন শেষে মঙ্গলবারও মানববন্ধন এবং বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছে শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জননী জাহানারা ইমাম ছাত্রী হল ও বেগম সিরাজুন্নেসা ছাত্রী হলের যৌথ আয়োজনে শাবির ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি নিয়ে সচেতনতা মূলক সংগঠন ‘ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি নিপীড়ন প্রতিরোধ কমিটি’র সহযোগীতায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
[img]http://www.timenewsbd.com/contents/public/201404/1396964666.jpg[/img]
দুপুর সাড়ে ১২টায় গ্রন্থাগার ভবনের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলের ছাত্রীদের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
জানা যায়, ৩০ মার্চ বিভাগের ৪র্থ বর্ষ ২য় সেমিস্টারের এক ছাত্রী বিভাগের কর্মচারী আবু সালেহ কর্তৃক যৌন হয়রানির শিকার হন। ৩১মার্চ বিষয়টি নিয়ে ওই ছাত্রী বিভাগীয় প্রধান বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও কোন ব্যবস্থাই নেননি তিনি।
শুধু তাই নয়, বিভাগের সভায় একজন সম্মানিত শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মো. নাছির উদ্দিন অভিযোগকারী ছাত্রী সম্পর্কে উল্টো আপত্তিকর মন্তব্য করলেও এতে নীরব থাকেন বিভাগের প্রধান সহযোগী অ্যধাপক আনোয়ারা বেগম।
সোমবার ভিকটিম ২০/৩০জন শিক্ষার্থী উপাচার্যের সাথে দেখা করে তারা তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে। শিক্ষক নাছির উদ্দিনের হয়রানি ও নির্যাতনের কথা শুনে বলতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থীরা  কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় উপাচার্য ও প্রক্টরকেও চোখ মুছতে দেখা যায়।
সার্বিক বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভুইয়া বলেন, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। বিষয়টি সমাধনের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ করছে। পাশাপাশি বিষয়টি সমাধানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র তিনজন শিক্ষক ভিসির পক্ষে কাজ শুরু করেছে বলে তিনি উল্লেখ্য করেন।
[b]সিলেট, ৮ এপ্রিল (টাইমনিউজবিডি.কম) // জেআই[/b]