ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৎসরিক ডায়েরি থেকে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম উঠিয়ে দিয়ে ‘শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ স্লোগান বসিয়েছে প্রশাসন। বাংলাদেশের জাতিয় সংসদ ভবনেও যা লিখা রয়েছে। বর্তমান প্রশাসনের এমন কর্মকান্ডে চরম ফুঁসেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযোগ মানতে নারাজ কর্তৃপক্ষ।
বিগত বছরগুলোতে ইবি’র ডায়েরির প্রথম পাতার শির্ষে বিসমিল্লাহ্ বাক্যটি লিখা থাকতো। যার কয়েক পৃষ্ঠা পরেই রয়েছে ইবি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য। ইবি আইন ১৯৮০ (৩৭) ধারা অনুযায়ী সেখানে বলা আছে, “ধর্মতত্ত¡, ইসলামী শিক্ষা, তুলনামূলক আইনশাস্ত্র এবং অন্যান্য শিক্ষণ শাখাসমূহে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষাচর্চার ব্যবস্থা করা।” অথচ এই আইনের প্রকাশ্য অমান্য করলো বর্তমান প্রশাসন।
বিসমিল্লাহকে অস্বীকার করা কার্যত ওই আইনকেও অস্বীকার করা। এবছর সেই স্থানে বিসমিল্লাহ না লিখে সরকারি স্লোগান লিখেছে প্রশাসন। সেখানে লিখা হয়েছে, “শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ, শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।” বিসমিল্লাহ বাদ দিয়ে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৫ হাজার মুসলিম শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ধর্মীও অনুভূতিতে আঘাত হানা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বর্তমান প্রশাসন কোন ভাবেই এ দ্বায় এড়াতে পারবেন না বলে অভিযোগ ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজের। ২০০২ থেকে ০৯ সাল পর্যন্ত ডায়েরির শুরু হতো আল্লাহর নাম দিয়েই। তবে ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত ডায়েরির শুরুতে বিসমিল্লাহ লেখা হয়নি। অথচ ’৯৬ এর আগেও বিসমিল্লাহ রাখা হতো। বর্তমানে আবারো সে সরকারের আমল শুরুর পর ডায়েরি প্রকাশে বর্তমান প্রশাসন পূর্বের ধারা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ তাদের। তবে বিসমিল্লাহ বাদ দেয়ার অভিযোগ মাথায় নিচ্ছে না মুদ্রণ কমিটিসহ প্রশাসনের কেউ। একে অপরের ওপর দ্বায় দিয়ে খালাস হতে চাচ্ছেন।
মুদ্রণ কমিটির আহ্বায়ক ড. রাবিউল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোকে ডায়েরি প্রাকাশের নির্দেশনা ছিল। সে অনুযায়ী সংযোজন বিয়োজন করা হয়েছে। যে উক্তিটি দেয়া হয়েছে তা বর্তমান সরকারের স্লোগান। সবস্থানে দেয়া হয় বলে আমরাও দিয়েছি।’
ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘ডায়েরি প্রকাশে কমিটি করে দিয়েছিলাম। তারা এ বিষয়টির দায়িত্বে আছে। ভুল করে যদি বিসমিল্লাহ বাদ পড়তে পারে। আগামী বছর আমরা বিসমিল্লাহ রাখব।’
এমই





