ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার এবং দ্রুত ভিসি নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

বুধবার দুপুর ১টায় শিক্ষক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তারা। এসময় সাংবাদিকদের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. অলী উল্যাহ।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারি দের নিয়ে বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে সন্ত্রাস-জঙ্গি বিরোধী র‌্যালী করার কথাও বলেন তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়টি পুরোপুরি আবাসিক না হওয়ায় অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী ক্যাম্পাস পার্শবর্তী এবং কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে। তাই সরকারের কাছে দেশের চলমান সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি হামলাসহ সকল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দেওয়ার দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।

ইবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. এমতাজ হোসেন বলেন, “সন্ত্রাসকে রুখে দেওয়ার দায়িত্ব যেমন সরকারের, তেমনি সাধারণ নিরোপরাধ নাগরিকের নিরাপত্তা দেওয়া সরকারেরই দায়িত্ব। সন্ত্রাসের সাথে কেউ জড়িত থাকলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আমরা প্রশাসনকে সবধরণের সহযোগিতা করবো। ”

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ এবং আশপাশের হোস্টেলের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা খুবই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সব সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সরকার এবং সরকারের প্রশাসনের কাছে তারা নিজেদের নিরাপত্তা এবং শিক্ষা বান্ধব পরিবেশের দাবি জানান।

কুষ্টিয়া শহরে অবস্থানরত শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমরা নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছি। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকারের কাছে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ এবং নিরবিঘ্নে যাতায়াত এবং আমাদের সার্বিক নিরাপত্তার দাবি জানাচ্ছি।”

এদিকে গত ৩০ জুন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে অব্যাহতি দেওয়ায় অবিভাবক ছাড়াই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। থমকে দাঁড়িয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এমতাবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোন ব্যাক্তি নেই। তাই মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে অনতিবিলম্বে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগদানের জোর দাবি জানান শিক্ষক নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সহ-সভাপতি প্রফেসর ড. শহীদ মোহাম্মাদ রেজওয়ান, যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, সদস্য সচিব প্রফেসর ড. নুরুন-নাহারসহ শিক্ষক নেতারা।

এমআইএস