সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমোতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিতে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেহেদি হাসান নামে এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেছে ইবি শাখা ছাত্রলীগ কর্মীরা।
গতকাল দুপুর সোয়া ১টার দিকে অনুষদ ভবন এলাকায় তাকে মারধর করা হয়। এসময় প্রক্টরিয়াল বডি মেহেদি কে উদ্ধার করতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রক্টরের উপর চড়াও হয়। মেহেদি হাসান বাংলা বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাকে ইবি মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক জরুরি সভায় মেহেদিকে সাময়িক বরখাস্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করেছে।
জানা যায়, শ্রক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইমতে “বাংলা বিভাগ” নামে একটি গ্রুপে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করাছিল মেহেদি। এসময় এক বন্ধু গ্রুপে প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোস্ট করলে প্রধানমন্ত্রীর ছবিতে বিরুপ মন্তব্য করে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান। পরে গ্রুপের অন্য সদস্যরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করে।
এদিকে মেহেদি অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোষ্টকারী মাঝে মাঝেই গ্রুপে অশ্লীল (ন্যকেট) ছবি আপলোড করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল মেহেদি হাসান পরীক্ষার হলথেকে বের হলে ছাত্রলীগ কর্মীরা তাকে বেশ কয়েক দফায় মারপিট করে। প্রথমে অনুষদ ভবনের কড়িডরে এর পরে ছাত্রলীগের টেন্টে এবং পরে প্রক্টর আসলে প্রক্টরের উপস্থিতিতেই মেহেদিকে মারধর করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। এসময় প্রক্টর তাদের নিবৃত করতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা প্রক্টরের উপরও চড়াও হয়।
পরে প্রক্টরিয়াল বডি মেহেদিকে হেফাজতে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে ভর্তি করে। এদিকে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে বিরুপ মন্তব্য করায় তাৎক্ষণাত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক জরুরী সভায় মেহেদিকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্ত করছে।
মেহেদি হাসান বলেন,“ গ্রুপে মাঝে মাঝেই অশ্লীল ছবি পোস্ট করে গোলাম মস্তফা নামের এক সদস্য। এ জন্য বন্ধু হিসেবে আমি তাকে গালাগাল করেছি। পরে আমাকে ফাঁসাতে প্রধানমন্ত্রীর ছবি পোস্ট করে। আমি ভালভাবে খেয়াল না করেই ছবিতে মন্তব্য করেছিলাম।”
প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “ প্রশাসনের সিদ্ধান্ত মতে মেহেদিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। একই সাথে তাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে। ”
এমএম





