ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) বাংলাদেশ নেশনাল ক্যাডেট কর্পস (বিএনসিসি) এর নৌ শাখার রাশেদুল ইসলাম নামে এক ক্যাডেটের উপর হামলা করেছে ছাত্রলীগের কর্মীরা।

রোববার দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক। আহত রাশেদুল ইসলাম আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রোববার বিএনসিসি ক্যাডেট রাশেদুল ইসলাম অনুষদ ভবনস্থ বিএনসিসি অফিস থেকে বের হলে ছাত্রলীগের চার জন কর্মী রাশেদের উপর হঠাৎ হামলা করে। তারা লাঠিসোটা দিয়ে বেধরক মারধর করতে থাকলে এক পর্যায়ে রাশেদ বেহুশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পরে।

প্রথ্যক্ষদর্শী এক শিক্ষার্থী জানায়, বেহুশ হয়ে মাটিতে পরে যাওয়ার পরেও তারা বেশকয়েকটি আঘাত করে পালিয়ে যায়।

হামলাকারীরা হলো, মাহমুদ জুবায়ের আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ ১২-১৩, রিয়ন মিয়া আইন বিভাগ ১৩-১৪, সোহাগ দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ১৩-১৪, সাজ্জাদ হোসেন বিপুল ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ ১৩-১৪।

পরে বেহুশ অবস্থায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। চিকিৎসা কেন্দ্রে কর্তব্যরত ডাক্তার পারভেজ হাসান তার অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতালে পাঠানোর জন্য বলেন। পরে তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

জানা যায়, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের অনার্স প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে বিএনসিসি’র নৌ শাখার সদস্য রাশিদুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের শৃংখলা কমিটির অংশ হিসেবে মেইন গেটে দায়িত্বরত ছিল।

সে সময় প্রশাসনের নির্দেশে তুষার নামে এক শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয়। পরে ক্যাম্পাসে দায়িত্বে থাকা কুষ্টিয়া জেলার এ এস পি মাহবুব জামান তুষারকে চর থাপ্পর দিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সমাধান করে দেয়। কিন্তু সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবার এ ঘটনা ঘটায় ছাত্রলীগকর্মীরা।

রাশেদের সাথে ঝিনাইদাহ্ যাওয়া এক শিক্ষার্থীর কাছে শারীরিক অবস্থার খোঁজ জানতে চাইলে তিনি বলেন,‘ রাশেদের অবস্থা বেশি ভাল না। ডাক্টার বলেছে সিটি স্ক্যান না করা পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছেনা।’

মারধরের ঘটনায় বিএনসিসি’র নৌ প্লাটনের দায়িত্বে থাকা বাংলা বিভাগের শিক্ষক ইয়াসমিন আরা সাথী বলেন,‘ আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম এবং তারা আমাকে উপেক্ষা করে রাশদকে মারধর করেছে। এঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।’

এবিষয়ে ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন,‘যারা হামলা করেছে তারা সন্ত্রাসী। ছাত্রলীগের সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে তাতে ছাত্রলীগ সহযোগিতা করবে।’

প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন,‘ দোষীদের সনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যাবস্থা গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’

এমকে