৩৭তম বিসিএসের প্রাথমিক বাছাই (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষার জন্য আট সেট প্রশ্নপত্র করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘চিত্রা’ কোডের প্রশ্নপত্রে আজ শুক্রবার পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই সেট বাছাই করা হলো?

উত্তর জানতে চাইলে ফিরতে হবে সকাল ৯টায়। সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সম্মেলন কক্ষে বসে আছেন পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, ৩৭তম বিসিএসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য কামরুন নেসা খানমসহ অন্য সদস্যরা। আছেন পিএসসির অতিরিক্ত সচিব, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ অন্য কর্মকর্তারা। সবাই অপেক্ষা করছেন লটারির। প্রথম আলোর এই প্রতিবেদকও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

সম্মেলন কক্ষের টেবিলে রাখা হয়েছে লটারির বাক্স। চেয়ারম্যানের নির্দেশনা পেয়ে পিএসসির পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ক্যাডার) আ ই ম নেছারউদ্দিন লটারির বাক্স ঘোরাতে শুরু করলেন। দীর্ঘক্ষণ ঘোরানো হলো। এরপর তিনি থামলেন। ভেতর থেকে বের করলেন ছোট্ট ডিমের মতো দেখতে একটি বস্তু। তার ভেতর থেকে কাগজ বের করা হলো। পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক সেটি দেখে জানালেন ‘চিত্রা’।

ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে এই পুরো প্রক্রিয়া দেখছিলেন চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকসহ অন্য কর্মকর্তারা। ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে তাঁরাও জেনে গেলেন ‘চিত্রা’ কোডের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নিতে হবে। এরপর মুঠোফোনে সেই বার্তা চলে গেল বিসিএস পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ১৯০টি কেন্দ্রের সব নির্বাহী হাকিমের কাছে। সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হলো বিসিএস পরীক্ষা।

এই লটারির আগে পিএসসির চেয়ারম্যান ছয় বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে ভিডিও সম্মেলনে কথা বলেন। পিএসসিতে অবশ্য এই লটারির কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছিল ভোর চারটা থেকেই। পিএসসি থেকে ট্রাঙ্কের ভেতরে সিলগালা অবস্থায় থাকা আট সেট করে প্রশ্নপত্র পাঠানো হয় ঢাকার ১২৩টি কেন্দ্রে। সকাল আটটার মধ্যেই এই প্রক্রিয়া শেষ হয়। আর ঢাকার বাইরের কেন্দ্রগুলোতে সেটি চলে যায় বৃহস্পতিবারই।

পিএসসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক বলেন, ‘বিসিএসে যেন প্রশ্নপত্র ফাঁস না হয়, সে কারণে কয়েক বছর ধরেই একাধিক সেট প্রশ্নপত্র করা হচ্ছে। তবে কোন সেটে পরীক্ষা হবে, সেটি আগে থেকে কেউই জানেন না। সবার সামনে লটারির মাধ্যমেই সেটা করা হচ্ছে। ভিডিও সম্মেলনের মাধ্যমে সেটি সবাই দেখতে পাচ্ছেন। এর মাধ্যমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৭তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন ২ লাখ ৪৩ হাজার ৪৭৬ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ঢাকায় দুজন ও চট্টগ্রামে একজন জেলখানায় বসে পরীক্ষা দিচ্ছেন। প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন করে নির্বাহী হাকিম ছিলেন। পুরো দুই ঘণ্টা তাঁরা কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণ করেছেন।
পরীক্ষার কক্ষে এবার কোনো রকম বইপত্র, মোবাইল, ক্যালকুলেটর, ইলেকট্রনিকস ডিভাইস, হাতঘড়ি, পকেটঘড়িও সঙ্গে আনা নিষেধ ছিল। পরীক্ষা শেষে অনেক পরীক্ষার্থীই বলেছেন, এবারের প্রশ্নপত্র বেশ কঠিন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন ঠিক আছে।

প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা হিসেবে ১ হাজার ২২৬ জনকে নিয়োগ দিতে গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ৩৭তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। এ বিসিএসে অংশ নিতে গত ৩১ মার্চ থেকে ২ মে পর্যন্ত প্রার্থীরা আবেদন করেছিলেন। সূত্র প্রথম আলো

এসএ