যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা ছাত্রী ধর্ষণ মামলাটি ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ দাবি করেছেন কয়েক শিক্ষার্থী।

প্রেসক্লাব যশোর মিলনায়তনে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেন ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে যবিপ্রবির কয়েক শিক্ষার্থী।

তবে অভিযুক্ত শিক্ষক তাদের ‘ম্যানেজ’ করে এ কর্মসূচি পালন করাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

১৯ জুন যবিপ্রবির পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজ আল হাসানের বিরুদ্ধে একই ডিপার্টমেন্টের এক ছাত্রী কোতয়ালী থানায় ধর্ষণ মামলাটি (মামলা নম্বর-৮৭) করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক সৈয়দ মাহফুজ আল হাসান তাকে নোট, প্রশ্ন ইত্যাদি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে বিয়ে করবেন বলে দীর্ঘদিন শারীরিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। সম্প্রতি তিনি বিয়ের কথা বললে ওই শিক্ষক বেঁকে বসেন। এমনকী বিষয়টি চাউর হলে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

এদিকে ধর্ষণের মামলা রুজু হওয়ার পরপরই শিক্ষক হাসান গা-ঢাকা দেন। পুলিশ তার বাসায় হানা দিলেও পায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্রে জানা গেছে, ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষক হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে; তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে বলে সূত্র জানায়।

সূত্র আরও জানায়, শাস্তির বিষয়টি ওই শিক্ষক আগেই জানতে পারেন এবং তার পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করতে অনুগত কয়েক ছাত্রকে ‘ম্যানেজ’ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদীকে ‘ষড়যন্ত্রকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা দাবি করেন, ‘ওই শিক্ষার্থী স্যারকে প্রেমের ফাঁদে ফেলতে ব্যর্থ হওয়ায় অসংলগ্ন, অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ আর চরম নাটকীয়তাপূর্ণ মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর খেলায় মেতেছেন।’

তাদের দাবি, ২০১৫ সালে এশিয়ান কংগ্রেস অন নিউট্রিশনে এ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত একমাত্র বাংলাদেশী বিজ্ঞানী পুষ্টিবিদ সৈয়দ মাহফুজ আল হাসান। ওই ছাত্রী শিক্ষক হাসানের চরিত্রহননের মাধ্যমে তার পরিবারকে ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছেন। তারা ‘ষড়যন্ত্রকারী’ ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে আজকের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে রুখে দাঁড়ালেন বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র নাসিরউদ্দিন বাদল, ফার্মেসি চতুর্থ বর্ষের বোরহানউদ্দিন জিহাদ, খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের মেহেদি হাসান, মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের ভাস্বর রায় মিটু, ফিসারিজ ডিপার্টমেন্টের রুহুল আমিন দেওয়ান, ইংরেজি বিভাগের আতিকুর রহমান প্রমুখ।

অভিযোগের বিষয়ে কথা হয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘মাহফুজ টাকা-পয়সা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করিয়েছেন। আর দেশের বাইরে স্কলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে একই ডিপার্টমেন্টের কয়েক শিক্ষার্থীকে তিনি অলরেডি ম্যানেজ করে ফেলেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলার অভিযোগে যা বলেছি, আর তদন্ত কমিটিতে যা বলা হয়েছে তা ওই শিক্ষার্থীদের জানার কথা নয়।’

এসব বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয় পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মাহফুজ আল হাসানের সঙ্গে। কিন্তু সেলফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বিশ্বদ্যিালয়ের রেজিস্ট্রার ইঞ্জিনিয়ার আহসান হাবিব জানান, অভিযোগের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় খুললে জানা যাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জেআই