কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডি ও বাড্ডা নতুন বাজার এলাকায় কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে আন্দোলন শুরু করেন।

ধানমন্ডির শুক্রাবাদ এলাকায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কয়েকশ শিক্ষার্থী সড়ক অবরোধ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন। মোহাম্মদপুর রামচন্দ্রপুর এলাকায় ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস এর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সামনে একই দাবিতে আন্দোলন করেন।

রাজধানীর কুড়িল-বিশ্বরোড বসুন্ধরা গেট, নর্দা-প্রগতি সরণি অবরোধ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কোটা সংস্কারের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ ও ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় অবস্থান নিয়েছেন।

একই দাবিতে রামপুরায় আন্দোলন করছে ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব সড়কে শিক্ষার্থীদের অবরোধের মুখে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।  

রোববার (৮ এপ্রিল) পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয়। পরে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা দুপুর আড়াইটায় ঢাবি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। প্রায় ৪ ঘণ্টার শাহবাগ মোড় অবরোধ করে রাখে শিক্ষার্থীরা। রাত ৮টার দিকে আন্দোলনকারীদের হামলা চালায় পুলিশ।

ফাঁকা গুলি, টিয়ারশেল ও  লাঠিচার্জ করে কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান নেয়া শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয় পুলিশ।  তারা এসে চারুকলা অনুষদের সামনে অবস্থান নেয়। পরে তারা আন্দোলনকারীরা টিএসসির সামনে অবস্থান নেয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়ায় শিক্ষার্থী, পুলিশ ও ছাত্রলীগ।  টিএসসি এলাকা পর্যন্ত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় পুলিশের টিয়ারশেল, কাদানে গ্যাস, জলকামান নিক্ষেপ ও ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫০ জন।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন চলে আসছে। ওই আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১৪ মার্চ ৫ দফা দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিতে সচিবালয় অভিমুখে যেতে চাইলে পুলিশি ধরপাকড় ও আটকের শিকার হয় তিন আন্দোলনকারী। এরপর আরো বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে রাস্তায় নামে আন্দোলনকারীরা।

আন্দোলনকারীদের পাঁচ দফা দাবি হলো- সরকারি নিয়োগে কোটার পরিমাণ ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা, কোটার যোগ্য প্রার্থী না পেলে শূন্যপদে মেধায় নিয়োগ, কোটায় কোনো ধরনের বিশেষ নিয়োগ পরীক্ষা না নেওয়া, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে অভিন্ন বয়সসীমা, নিয়োগপরীক্ষায় একাধিকবার কোটার সুবিধা ব্যবহার না করা। 

এমবি