চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।তুচ্ছ ঘটনাক কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে সৃষ্ট সংঘর্ষে চার পুলিশসহ ৬ জন আহত হয়েছেন।

মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবএিম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘ভিএক্স’ গ্রুপ ও সাধারণ সম্পাদক আজম নাসির উদ্দিনের অনুসারী ছাত্রলীগের শাটল ট্রেনের বগিভিত্তিক সংগঠন ‘সিক্সটিনাইন’ গ্রুপের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

প্রতক্ষ্যদর্শীরা জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সিক্সটিনাইনের কর্মী রায়হান ও ভিএক্সকর্মী আনোয়ারের মধ্যে কথা কাটাকাটি নিয়ে হাতাহাতি হয়। এর পরপরই দু’গ্রুপের কর্মীরা শাহ জালাল ও শাহ আমানত হলে এসে সংগঠিত হয়ে দেশীয় অস্ত্র হাতে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে ছাত্রলীগের ভিএক্সকর্মী আনোয়ার আহত হয়। পরে তাকে চবি মেডিকেল সেন্টারে প্রথামিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় ছাত্রলীগের উভয়পক্ষই ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। ছাত্রলীগের ইট-পাটকেলে পুলিশের চার সদস্য আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহত পুলিশ সদস্যদের নাম জানা যায়নি।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৮ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশের টিয়ারশেলের আঘাতে আহত হয় সিক্সটিনাইন গ্রুপের কর্মী ফাহিম।

এ ঘটনায় ছাত্রলীগের একপক্ষ অপরপক্ষকে দায়ী করেছে।

চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিক্সটিনাইন গ্রুপ নেতা আলমগীর টিপু বলেন, ‘ভুল বোঝাবুঝির কারণে জুনিয়রদের মধ্যে এমন সমস্যা হয়েছে। সিনিয়ররা বসে তা সমাধান করে নেব।’

এদিকে ভিএক্স গ্রুপের নেতা রেজাউল করিম বলেন, ‘আলমগীর টিপুর অনুসারী রায়হানসহ ১০-১২ জন শহীদ মিনার মোড়ে আমাদের জুনিয়র আনোয়ারকে মারধর করে আহত করে। পরে তারাই আবার শাহ আমানত হল থেকে অস্ত্র ও লাঠিসোটা হাতে শাহজালাল হলে হামলা চালায়।’

হাটহাজারী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. সালাহ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয়গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১৮ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। উভয় পক্ষের ইট-পাটকেলের আঘাত চার পুলিশ সদস্য আহত হয়।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর সিরাজ উদ দৌলাহ বলেন, ‘দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া কী কারণে হল, তা খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশকে সতর্ক থাকতে আমরা অনুরোধ করেছি।’

কেএইচ