চাকরি না দেয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। দলীয় বিবেচনায় না নিয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে আত্মীয়করণের মহোৎসব হয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছে সংগঠনটির সাবেক এই নেতাকর্মীরা।
তারা অভিযোগ করে বলছেন, প্রশাসনের কর্তারা হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ডে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে প্রশাসনের কি সমস্যা সেটা জানতে চাইছেন ছাত্রলীগের সাবেক এই নেতাকর্মীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বোর্ড সভায় অর্থের ব্যাপক ছড়াছড়ি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে নিয়োগ বোর্ডে কাদেরকে চূড়ান্ত করা হয়েছে তা সিন্ডিকেটে পাশ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গোপনীয় থাকার কারণে এখন পর্যন্ত তাদের নাম নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তবে বিশ্বস্ত একটি সূত্রে জানা গেছে, চারটি বিজ্ঞাপিত পদের বিপরীতে ৮ জন প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার ও নিয়োগ বোর্ডের এক্সপার্ট প্রফেসর ড. শাহজাহান আলীর মেয়ের জামাই নাজমূল ইসলাম, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. কাজী আকতার হোসেনের ভাগ্নী তাছলিমা খানম নিয়োগ পেতে যাচ্ছেন।
এদিকে নিয়োগ বোর্ডে নিজ পছন্দের দুই জন প্রার্থী নিয়োগ না পওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. আফজাল হোসেন ভিসির সাথে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছেন। ট্রেজারারের সাথে ওই দুই জন প্রার্থীর মোটা অংকের টাকার চুক্তি ছিলো বলে ক্যাম্পাসে সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির দাবিতে সোমবার দুপুরে ইবি ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আশিকুর রহমান জাপান, মোহাম্মদ আলী শিমুল, মাহমুদ হাসান লেলিন, কাশেম, টিটুর নেতৃত্বে প্রায় ১৫/২০ জন বহিরাগত নেতাকর্মী প্রশাসন ভবনে হই-হুল্লোড় শুরু করে।
এতে ভিসির কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে ওই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে বের করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসময় ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার ক্যাম্পাস্থ বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
এঘটনার পর চাকরি প্রার্থীরা ক্যাম্পাসের মেইনগেট অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মকর্তা কর্মচারীরা নিজ দায়িত্বে ক্যাম্পাস ত্যাগ করে।
চাকরি প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা টাইমনিউজবিডি'র কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রশাসনের কর্তারা হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের বোর্ডে কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। দলীয় বিবেচনায় না নিয়ে আত্মীয়করণের মহোৎসব হয়েছে নিয়োগের ক্ষেত্রে। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে প্রশাসনের কি সমস্যা সেটা জানতে চাই। অনেক সহ্য করেছি আর না।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার টাইমনিউজবিডি'কে বলেন, চাকরির জন্য যারা আন্দোলন করছেন তাদের সাথে আমার কথা হয়েছে। যে প্রক্রিয়ায় তারা চাকরি চায় তা সম্ভব নয়। ইউজিসির পক্ষ থেকে পদ সৃষ্টি সাপেক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া হবে।
এসএইচ/ এআর





