মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টার স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। স্বাস্থ্য বিষয়ক সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি একথা জানান।

তবে তিনি কিছুটা সন্দিহান যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একক সিদ্ধান্তে কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিতে পারবেন কি-না। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মেডিক্যাল ভর্তি কোচিংয়ের কোনো প্রয়োজন নেই। 'রেটিনা মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টার’ বন্ধ করে দিতে চাই। এটা জামায়াত শিবিরের।’ অবশ্য আর কোনো কোচিং সেন্টারের নাম তিনি নেননি।

কয়েক বছর ধরে পরীক্ষার আগে মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং বন্ধ করে দেয়া হয়। এবারও বন্ধ করা হয়েছে।

আজ দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল হক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ। আগামী ৭ অক্টোবর মেডিক্যাল ও ৪ নভেম্বর ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষা নেয়া হবে।

'ভর্তি পরীক্ষা কিভাবে নেয়া হবে, কিভাবে প্রশ্ন করা হবে, প্রশ্ন কিভাবে কেন্দ্রে পৌঁছানো হবে' এসব নিয়ে অনুষ্ঠানে কথা বলেন মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ।

তিনি বলেন, পরীক্ষা নেয়ার আগে ও পরে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি অথবা গুজব যেন না ছড়ায় সেদিকে প্রশাসনের নজর রয়েছে। পরীক্ষায় সর্বজয় শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষককে মডারেটর হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি পরীক্ষার পর মাইগ্রেশন শেষ হওয়া পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন। মডারেটরের কোনো কাজে স্বাস্থ্য অধিদফতর হস্তক্ষেপ করবে না। এবারো স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রেসে প্রশ্ন ছাপানো হবে। প্রেসে কর্মরতদের কারো মোবাইল ফোন থাকবে না। তারা পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে প্রেস থেকে বের হতেও পারবেন না। এমনকি এখানে কাজ করার জন্য এমন কর্মীদের বাছাই করা হয়েছে যারা লেখাপড়া জানেন না। তাদের সার্বক্ষণিক সিসি ক্যামেরায় পর্যবেক্ষণ করা হবে।

এ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক আরো বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটরা প্রশ্ন নিয়ে যাবেন ট্রাংকে করে। ট্রাংকের ভেতরে থাকবে একটি অটো ট্রেকিং চিপযুক্ত ডিভাইস। এ ডিভাইস সারাক্ষণই স্বাস্থ্য অধিদফতরে ম্যাসেজ দেবে যে প্রশ্নগুলো কি অবস্থায় রয়েছে, কখন ট্রাংক খোলা হয়েছে, কারা ট্রাংক খুলছে ইত্যাদি। এছাড়া ট্রাংক খোলার সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে থাকা মোবাইলের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদফতর মনিটরিং করবে এবং তা সংরক্ষণ করবে। ট্রেকিং ডিভাইসের মাধ্যমে জানা যাবে প্রশ্ন বহনকারী গাড়ি কখন কোথায় আছে।

মহাপরিচালক জানান, পরীক্ষার্থীরা এবার পরীক্ষার ১০ মিনিট আগে হলে প্রবেশ করবে।

তিনি আরো জানান, এবার মোট পরীক্ষার্থী ৯০ হাজার ৪২৬ জন। পরীক্ষার হবে ৩৭টি কেন্দ্রে। প্রবেশপত্র পৌঁছানো হবে ২ অক্টোবর থেকে। রোল নম্বর বসানো হয়েছে র‌্যানডমলি বা দৈবচয়নের মাধ্যমে। এক সাথে ফরম জমা দিলেই পাশাপাশি সিট পড়বে না। এটা করা হয়েছে দেখাদেখি এড়ানোর জন্য।
- See more at: http://www.dailynayadiganta.com/detail/news/156802#sthash.LRoIDif1.dpuf