দেশের পরীক্ষা থেকে বহু নির্বাচনী প্রশ্ন (এমসিকিউ) উঠিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদেরা। একই সঙ্গে তাঁরা নোট, গাইডবই বন্ধ, শিক্ষাক্রম সংশোধন করে বইগুলো সহজভাবে তৈরি, প্রশ্নব্যাংক তৈরি করে সেখান থেকে পরীক্ষা নেওয়াসহ আরও বেশ কিছু সুপারিশ করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে মাধ্যমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে করণীয় শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় শিক্ষাবিদেরা এসব পরামর্শ দেন। এর আয়োজন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
বর্তমানে পরীক্ষার প্রশ্ন দুই ভাগে করা হয়। এর মধ্যে ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৪০ নম্বর এমসিকিউ এবং ৬০ নম্বর সৃজনশীল পরীক্ষা হয়। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী বছর থেকে এমসিকিউ ১০ নম্বর কমানো হবে।
শিক্ষাবিদদের পরামর্শের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, শিক্ষাবিদদের এই পরামর্শ অনুযায়ী তাঁরা এখন কর্মপন্থা ঠিক করবেন। তবে এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে তাঁরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। শিক্ষাবিদদের পরামর্শ এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাহস জোগাবে।
শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন, এখন দেখা যাচ্ছে, শিক্ষকেরাই সৃজনশীল পদ্ধতিতে প্রশ্ন করতে পারছেন না। না পেরে তাঁরা গাইডবই অনুসরণ করছেন। অর্থাৎ আবারও নোট, গাইডবইয়ের যুগে চলে যাওয়া হচ্ছে। এ জন্য তিনি কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশ্নব্যাংক তৈরি করে সেখান থেকে পরীক্ষা নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিভিন্ন প্রসঙ্গ টেনে বলেন, শিক্ষার সোনার খাঁচা তৈরি হলো। কিন্তু গানের পাখিটি আসল না। তাহলে চলবে না। বিপুল পরিমাণ পাসের সমালোচনা করে বলেন, এত পাস সমস্ত শিক্ষাব্যবস্থায় সন্দেহ তৈরি করছে। মানুষের আত্মা কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, এমসিকিউ প্রশ্ন শূন্যে নামিয়ে আনা উচিত। এখন কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের রমরমা ব্যবসা হচ্ছে। যদি গাইডবই পড়তে হয় তাহলে পাঠ্যবই দরকার কী? তিনি পাবলিক পরীক্ষা সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে শেষ করার পরামর্শ দেন।
অধ্যাপক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল বলেন তিনি মনে করেন এমনভাবে বই লেখা উচিত যাতে শিক্ষার্থীদের বাইরের বই পড়তে না হয়। শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়তে না হয়।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, এখন প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত করা হলো। তাহলে এখন অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক ও অবৈতনিক করতে হবে। তিনিও এমসিকিউ তুলে দেওয়ার পক্ষে মত দেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ বলেন,
চমৎকার পাঠ্যবই তৈরি করতে হবে। ভালো প্রশ্ন করতে হবে। মূল্যায়ন ব্যবস্থা ভালো করতে হবে।
শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন, অর্থনীতিবিদ কাজী খলিকুজ্জমান আহমদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস মনজুর আহমেদ, শিক্ষক শ্যামলী নাসরীন চৌধুরী প্রমুখ।
এমআর





