শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নবম শ্রেণির এক ছাত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ক্লাসের একাধিক নারী শিক্ষার্থীর অশ্লীল ছবি তৈরি করে তাদের পাঠিয়েছে এবং কুপ্রস্তাব দিয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে একাধিক নারী শিক্ষার্থীকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করার অভিযোগও রয়েছে।

অভিযুক্ত ওই শিক্ষার্থী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষদের ডিনের ছেলে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তবে এরপর থেকে পরিস্থিতি প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যাতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে ভুক্তভোগী হিসেবে দেখানো হচ্ছে এবং যারা প্রতিবাদ করেছে, তাদের অপরাধী হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।

ঘটনার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দেওয়া একটি বক্তব্য বাংলানিউজের হাতে এসেছে। সেখানে অভিযোগ করা হয়েছে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ক্লাসে নারী শিক্ষার্থীদের নিপীড়ন করেছে এবং ধর্ষণের হুমকি দিয়েছে। তার বাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিনের ক্ষমতা ব্যবহার করে তথ্যপ্রমাণকে ভুয়া হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর মা ভুক্তভোগী নারী শিক্ষার্থীদের বাসায় গিয়ে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষকরা অভিযোগ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন, পরীক্ষায় নম্বর কমিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন এবং অভিভাবকদের চুপ থাকতে চাপ দিয়েছেন বলে শিক্ষার্থীদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বিদ্যালয় প্রশাসন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই সহকারী প্রক্টর ড. এ কে এম নূর আলম সিদ্দিকী ও ড. এনামুল হক সজীবকে নিয়ে দুই সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তবে কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, দুই সদস্যই ওই ডিনের অধীনে কাজ করেন এবং তাদের একজন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে একই ভবনে বসবাস করেন।

আন্দোলনকারীরা জানান, প্রতিবাদকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ১০ জনকে চিহ্নিত করে গত ২৭ দিন ধরে ক্লাস করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে তারা ক্লাসে অংশ নিতে পারবে না। অথচ তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও তা এখনো জমা দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও হুমকি বন্ধ করা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে ক্লাসে ফিরিয়ে নেওয়া এবং ডিনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে রাখা হয়েছে। তাদের শিখন ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করে দেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটি নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনাস্থার বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবারই উপাচার্যের কাছে যাবেন। আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিটি পরিবর্তনের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কোনো আপত্তি থাকলে শিক্ষার্থীরা তা জানাতে পারবে। কোনো ধরনের অবিচার হতে দেওয়া হবে না। এখানে কারও হস্তক্ষেপেরও সুযোগ নেই।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি তিনি জেনেছেন। কোনো কোনো পরিবারকে এ ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

এমএম