দলটির নেতারা বলেছেন, ‘নিত্যপ্রয়োজনীয় জ্বালানির এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলবে। জনস্বার্থ উপেক্ষা করে জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হচ্ছে।’
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এমন প্রতিক্রিয়া জানান নেতারা।
বিবৃতিতে দলটির ভারপ্রাপ্ত আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম সুবহানী ও মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইযহার বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বেসরকারি পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। সেপ্টেম্বরে এ দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে ৪৭৫ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৩০৬ টাকা থাকা সিলিন্ডারের দাম এখন ২ হাজার ৬০ টাকা। অথচ সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা সে অনুপাতে বাড়েনি।
নেতারা বলেন, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও সংসারের বাড়তি ব্যয়ের চাপে থাকা মানুষের ওপর নতুন করে এই বোঝা চাপানো জনস্বার্থবিরোধী। শুধু সরকারি নির্ধারিত দাম বাড়ানোই নয়, নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। এতে ভোক্তারা দ্বিমুখী চাপে পড়ছেন।’
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে জনগণের ওপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হলেও আমদানি ব্যয়, পরিবহন খরচ, কমিশন ও অন্যান্য মূল্য নির্ধারণের হিসাব স্বচ্ছভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে না। বাজারে সিন্ডিকেট ও অতিরিক্ত মুনাফার সুযোগ থাকলে শুধু দাম নির্ধারণের ঘোষণা দিয়ে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব নয়।’
তারা বলেন, ‘রান্নার গ্যাস কোনো বিলাসপণ্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপকরণ। এর দাম বাড়লে পারিবারিক ব্যয়ের পাশাপাশি হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার খরচও বাড়ে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়ে।’
এ অবস্থায় এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা ও মূল্য নির্ধারণের বিস্তারিত হিসাব প্রকাশ, বাজারে কঠোর নজরদারি এবং নির্ধারিত দামের বেশি বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান নেতারা। একই সঙ্গে ভোক্তাদের স্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
নেতারা বলেন, ‘জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার পরিবর্তে একের পর এক মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলা দায়িত্বশীল সরকারের কাজ হতে পারে না। জ্বালানি খাতের অব্যবস্থাপনা, বাজার নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতা কিংবা ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর স্বার্থের দায় সাধারণ মানুষ বহন করবে না।
‘এলপিজির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দাম নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনগণের দুর্ভোগের দায় সরকারকেই নিতে হবে।’
এমএম
















