গত ২৭ অক্টোবর বিজয় একাত্তর হল কর্তৃপক্ষের জারি করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিনা অনুমতিতে একটি ছাত্রসংগঠনের ব্যানারে রিডিং রুমে এসি স্থাপন করা হয়েছে, যা প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার পরিপন্থি। হলের বৈদ্যুতিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় অতিরিক্ত যন্ত্র সংযোজনের ফলে অগ্নিকাণ্ডসহ অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রিডিং রুমে এসি স্থাপনের বিষয়ে কারিগরি মূল্যায়নের জন্য হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. স ম আলী রেজা বলেন, এসি স্থাপনের জন্য তারা কোনো অনুমতি নেননি। বিষয়টি জানার পরই হলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
ছাত্রসংগঠনের কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ছাত্রসংগঠনগুলোর কাছ থেকে কিছু নেওয়ার কোনো প্রচলন বা নীতিমালা কখনো ছিল না। কেন্দ্রীয় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া হলের সীমিত বৈদ্যুতিক সক্ষমতায় এসি স্থাপন সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রশাসনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন বিজয় একাত্তর হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আশিক বিল্লাহ। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বারবার অবহিত করা হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর প্রশাসনকে আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়ে ১১ অক্টোবরের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
আশিক বিল্লাহ আরও বলেন, ১২ অক্টোবর প্রাধ্যক্ষের কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল। তখন তারা স্পষ্ট করে বলেছিলেন, কোনো সিদ্ধান্ত না এলে ছুটির মধ্যেই এসি স্থাপন করা হবে।
বিজয় একাত্তর হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) হাসানুল হক বান্না বিষয়টিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, প্রশাসন তাদের সহযোগিতা করছে না, বরং শত্রু হিসেবে বিবেচনা করছে। এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক ইস্যু।
তিনি আরও প্রশ্ন তুলে বলেন, অন্য হলগুলোতে বিভিন্ন সংগঠনের সৌজন্যে এসি বা অন্যান্য সামগ্রী নেওয়া হলে বিজয় একাত্তর হলে তা করা যাবে না কেন? তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক কারণেই প্রশাসন এসি স্থাপনের বিষয়টি আটকে রেখেছে।
এনএইচ











