চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থী তাপস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মৌনমিছিল ও মানববন্ধন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থী। এছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলা ও উপজেলা ভিত্তিক কয়েকটি সংগঠন বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে চবি শহীদ মিনার চত্বর, জিরো পয়েন্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসিনক ভবনের সামনে এক কর্মসূচি থেকে এ দাবি জানান।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল। এ মিছিল থামাতে হবে। লাশের মিছিল থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় এ পর্যন্ত যতগুলো হত্যাকাণ্ড হয়েছে প্রত্যেকটির বিচার বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় হলো মেধাবী তৈরির সফল কারখানা।’

তারা আরো বলেন, ‘তাপস সরকারের হত্যাকারীরা চিহ্নিত। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানে কারা তাপসকে খুন করেছে। তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে উচ্চশিক্ষা নিতে এসে আর কোনো শিক্ষার্থীকে লাশ হয়ে ফিরতে না হয়।’

এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক এনামুল হক আরাফাত বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। শুধুমাত্র চবিতে এ পর্যন্ত ১৮ জন খুন হলেও একটি হত্যাকাণ্ডেরও কোনো বিচার হয়নি। তাই আমরা তাপস হত্যাকাণ্ডসহ প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের অনুরোধ জানাচ্ছি।’

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, ‘নেত্রোকোনা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক শরীফুল ইসলাম, এনামুল হক আরাফত, সংগঠনের সদস্য নাজমুল হাসান, মিজানুর রহমান, সুনামগঞ্জ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ফারুক রাসেল, বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী দীপ্ত সরকার, তাপন প্রমুখ।

মানববন্ধনের আগে শিক্ষার্থীদের একটি মৌনমিছিল বিশ্ববিদ্যালয় জিরোপয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে প্রশাসনিক ভবন হয়ে শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

এদিকে বিকেল চারটার দিকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে ছাত্রলীগের একাংশের ডাকা সংবাদ সম্মেলন থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরের অপসারণ, তাপস সরকারের খুনিদের সনদ বাতিল, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে খুনিদের বিচার ও তাপসের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানানো হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির যুগ্ম সম্পাদক সুমন মামুন, সহসভাপতি অমিত কুমার বস, শাহাদাত হোসেন জুয়েল প্রমুখ।

জেআই