রাজধানীর ফার্মগেটে বাস থেকে নামিয়ে ৪ মেধাবী শিক্ষার্থীকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সংবাদ প্রকাশের ১দিন পরই তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত।
বুধবার রাজধানীর কাফরুল থানায় নাশকতার এক মামলায় এসআই মো. জিল্লুর রহমান তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন।
আজ (০২ জানুয়ারি) বুধবার রাজধানীর কাফরুল থানায় নাশকতার এক মামলায় শিক্ষার্থীদের আদালতে হাজির করলে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. বাকী বিল্লাহ কারাগারে পাঠানোর আবেদন দেন।
আরও পড়ুন: বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী: পরিবারের দাবি সাদা পোশাকে গ্রেফতার
আদালতের সাধারন নিবন্ধন কর্মকর্তা রনপ কুমার ভক্ত জানান, আজ ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে কাফরুল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিল্লুর রহমান ওই ৪ শিক্ষার্থীকে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক এই আদেশ দেন।
গতকাল (০১ জানুয়ারি) ক্রাইম রিপোর্টাস ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা দাবি করেন বাস থেকে তুলে নেওয়ার পর তাঁরা নিখোঁজ।
ওই ৪ শিক্ষার্থী হলেন- এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবু খালেদ মোহাম্মদ জাবেদ ( ২৫), স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের ছাত্র বোরহান উদ্দীন (২৬), মানারাত ইউনিভার্সিটির ফার্মেসির শেষ বর্ষের ছাত্র রেজাউল খালেক (২৪) ও ঢাকা ইউনানি আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজের সাবেক ছাত্র সৈয়দ মমিনুল হাসান (২৭)।
সংবাদ সম্মেলনে ৪ শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে শপিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফার্মগেটে বাস থামিয়ে ওই ৪ শিক্ষার্থীকে আটক করে সাদা পোশাকধারী পুলিশ। ওই ৪ জনের সঙ্গে বাসে থাকা তাঁদের অন্য ১ বন্ধু বিষয়টি অভিভাবকদের জানান।
বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ ৪ শিক্ষার্থী: পরিবারের দাবি সাদা পোশাকে গ্রেফতার
আজ (১ জানুয়ারি) মঙ্গলবার ক্রাইম রিপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের সন্ধান দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে অভিভাবকরা জানান, গত ২৯ ডিসেম্বর (শনিবার) শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট থেকে শপিং শেষে বাড়ি ফেরার পথে ফার্মগেটে বাস থামিয়ে সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন-এশিয়ান ইউনিভার্সিটির বাংলা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের আবু খালেদ মোহাম্মদ জাবেদ, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের বোরহান উদ্দিন, মানারাত ইউনিভার্সিটির শেষ বর্ষের রেজাউল খালেক ও ঢাকা ইউনানী আয়ুর্বেদিক মেডিক্যাল কলেজের সাবেক ছাত্র ডা. সৈয়দ মমিনুল হাসান।
অভিভাবকরা দাবি করেন, বাসে থাকা তাদের সন্তানদের অপর এক বন্ধুর মাধ্যমে গ্রেফতারের বিষয়টি তারা জানতে পারেন। তারপর তেজগাঁও থানা এবং পার্শ্ববর্তী সব থানাসহ আইনশৃঙ্খলা নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সবাই গ্রেফতারের বিষয়ে অস্বীকার করে। গ্রেফতারের পর দুই দিন পেরিয়ে গেলেও আইন অনুযায়ী তাদের আদালতে হাজির করেনি, যা উদ্বেগের বিষয়। তারা তাদের সন্তানদের নিয়ে শঙ্কিত।
অভিভাবকরা বলেন, আমরা বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানতে পেরেছি, আমাদের সন্তানরা পুলিশের হেফাজতেই আছে। নিরপরাধ মেধাবী ছাত্রদের গ্রেফতার করে অস্বীকার করা এবং এতো দিন পেরিয়ে গেলও আদালতে না আনায় আমরা উদ্বিগ্ন। এটা কোনোভাবেই দায়িত্বশীল পুলিশের কাজ হতে পারে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা তাদের জীবন নিয়ে শঙ্কা বোধ করছি।
অভিভাবকরা আরও বলেন, আমাদের জানা মতে, তারা কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। এরপরও যদি কোনও অপরাধ করে থাকে তাহলে এজন্য দেশের আইন মেনে বিচার হওয়ার কথা কিন্তু পুলিশ তা করছে না। আমরা এখন নিরুপায় হয়ে আমাদের নিখোঁজ সন্তানদের সন্ধান ও মুক্তির জন্য এই সংবাদ সম্মেলন করেছি।
আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা দাবি করছি। আপনাদের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কাছে আমাদের সন্তানদের মুক্তির ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।
এমবি





