ক্যাম্পাসে প্রায় অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বোচ্চ প্রশাসক হয়ে ক্যাম্পাসে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কাজের ব্যত্যয় ঘটছে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী কর্মকর্তা কর্মচারীদের। সেই অভিযোগ গেছে এবার তথ্য কমিশনে।

সোমবার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে শুনানি থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময় নিয়েছে। এজন্য শুনানির তারিখ ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিছিয়েছে তথ্য কমিশন।

জানা যায়, তথ্য অধিকার আইনে রংপুর একটি কলেজের অধ্যক্ষ খন্দকার আবুল হাসনাত ফখরুল আনাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানতে চান, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারী থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত উপাচার্য মোট কতদিন ছুটি ভোগ করেছেন।

তিনি আরও জানতে চান, শিক্ষকদের ছুটির নীতিমালা ও ২০১৮-১৯ সেশনে ভর্তি ফি বাবদ কত টাকা আয় এবং এই টাকা কোন কোন খাতে ব্যয় হয়েছে তার তথ্য। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এর সম্পুর্ন তথ্য না পেয়ে তিনি আবেদন করেন তথ্য কমিশনে।

ফখরুল আনাম বলেন, তথ্য অধিকার আইনে আমি তিনটি তথ্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জানতে চাই। কিন্তু তারা ২০ কার্যদিবসে তা আমাকে দেয়া হয়নি। এরপর আমি উপাচার্যের কাছে এটার জন্য আপিল করি। পরে তারা আমাকে আংশিক তথ্য প্রদান করে। তাদের এই আংশিক তথ্যে আমি সন্তুষ্ট না হয়ে তথ্য কমিশনে আবেদন করি। গত সোমবার বিষয়টি নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও টাইম পিটিশন দিয়েছে তথ্য কমিশন। এখন ১৮ ডিসেম্বর এর শুনানি হওয়ার কথা।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, উপাচার্যের সাথে রেজিস্ট্রারও ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থেকেই যাচ্ছেন। এর প্রতিফলন ঘটছে একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কাজে। এব্যাপারে উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। 

লোক-প্রশাসন বিভাগগের সহকারি অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল আসাদ বলেন, ক্যাম্পাসে উপাচার্যের ধারাবাহিক অনুপস্থিতির কারনে বিভিন্ন অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে এবং একটি মহল এটার ফায়দা লুটছেন।

এব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর সাথে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেনি।

ইভান চৌধুরী/এমবি