জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) প্রশাসন এক ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীসহ দু’জনকে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটককরেছে।

বুধবার জীববিজ্ঞান অনুষদের (ডি ইউনিট) দ্বিতীয় শিফটের ভর্তি পরীক্ষা চলার সময় গণিত বিভাগের ১২২ নম্বর কক্ষ থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।

আটক পরীক্ষার্থীর নাম সুমাইয়া আতিয়া আখি (রোল ৪০৭৮০০)। জানা যায়, ডি ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালীন গণিত বিভাগের ১২২ নম্বর কক্ষের পরীক্ষার্থী হুমাইয়া আতিয়া আখিকে দেখে কর্তব্যরত শিক্ষিকা এলমা জান্নাতুল ফেরদৌসের সন্দেহ হয়।

পরে তাকে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ওই মোবাইলের মেসেজ অপশন চেক করে শিক্ষকরা অসদুপায় অবলম্বনের বিষয়টি নিশ্চিত হন।

তারপর সুমাইয়াকে আটক করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে বলে, ‘প্রথমে প্রশ্ন দেওয়ার কথা থাকলেও পরীক্ষা দিতে আসার পর তাকে একটি মোবাইল ফোন দিয়ে পরীক্ষার হলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।

তাকে বলা হয় হলের ভেতরে কোনো সমস্যা হবে না শিক্ষক সেট আপ দেওয়া আছে।’ এরপর সুমাইয়ার দেওয়া তথ্যমতে মামুন নামের আরেকজনকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আটক মামুন নিজেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে লেদার টেকনোলজি’র সাবেক শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেন এবং আঁখির নিকট আত্মীয় বলে পরিচয় দেন। এসময় মামুনুর রশিদ সাংবাদিকদের জানান,‘আাঁখিকে ভর্তি করাতে আমার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধু হাফিজুর রহমানের মাধ্যমে ভর্তি জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হই।

হাফিজুর আমাকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমবিএ অধ্যয়নত সোহাগ, প্রাণীবিদ্যা বিভাগের তুষার ও পরিসংখ্যান বিভাগের আপনসহ জালিয়াতি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। এরপর তাদের সঙ্গে আঁখিকে ভর্তি করানোর শর্তে সাড়ে চার লক্ষ টাকার চুক্তি হয়।

আটক মামুন আরো জানায়,জালিয়াতি চক্রের সাথে এরুপ চুক্তি হয় যে তারা ভর্তি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২ ঘন্টা আগে প্রশ্নপত্র মুখস্ত করাবে পরীক্ষার্থীকে। আগে মূল সনদপত্র জমা দিতে হবে।

মেধাতালিকায় নাম আসলে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা পর দিন জমা দিতে হবে।সুমাইয়া আরো জানান, এসএমএস এর মাধ্যমে সেট কোড পাঠানো হলেও কোনো উত্তর সরবরাহ করা হয়নি।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ৪১তম ব্যাচের আরিফুল নামের এক ছাত্র সুমাইয়াকে হলে দিয়ে আসেন বলে তিনি জানান।

এদিকে একইদিনে ষষ্ঠ শিফটের পরীক্ষা চলাকালে বিজনেস স্টাডিজ অনুষদ ভবনের ২৭ নং কক্ষ থেকে রিয়াজ এবং সাহেদুর নামের দুজন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়।

তাদের দুজরে প্রশ্নপত্রের কোড আলাদা থাকা সত্তেও দুজনই পরীক্ষার উত্তর পত্রে একই কোড পূরন করলে পরিদর্শকের সন্দেহ হলে তাদের আটক করা হয়।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. তপন কুমার সাহা জানান, আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর. টাইমনিউজবিডি.কম,এসএইচ