ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে ঝলসে দেওয়া আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি (১৮) কে লাইফ সাপোর্টে রেখেই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে।

আজ (০৯ এপ্রিল) মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১০টা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অস্ত্রোপচার চলে। তাঁর ফুসফুস সক্রিয় করতে এই অস্ত্রোপচার হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

সিঙ্গাপুরের চিকিৎসকদের পরামর্শে এই অস্ত্রোপচার হয়েছে উল্লেখ করে নুসরাতের চিকিৎসায় গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম জানিয়েছেন, নুসরাতের চিকিৎসার আপডেট রিপোর্ট নিয়মিত সিঙ্গাপুরে পাঠানো হবে।

আজ(০৯ এপ্রিল) দুপুরে তিনি বলেন, “আজকের অপারেশনটা গতকাল করার কথা ছিল। যেহেতু ওর অবস্থার অবনতি হয় তাই আমরা ভেন্টিলেশনে (লাইফ সাপোর্ট) নিয়ে আজ অপারেশন করি। তাঁর পরিবারও আমাদের সঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে একমত হয়েছে। মেয়েটির অবস্থা কালকের চেয়ে আজকে বেটার।”

ডা. আবুল কালাম বলেন, “আমরা সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারাও আমাদের মেডিকেল বোর্ডের অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তে একমত পোষণ করেন। উভয় সিদ্ধান্তে নুসরাতের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।”

তিনি বলেন, “আমরা ওর পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো প্রতিদিন সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালকে মেইল করব। কোনো কিছু মনিটর করতে হলে ওরা আমাদের মেইলে জানাবে। প্রতিদিন তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ থাকবে। এছাড়া ১৫ তারিখ ওদের সঙ্গে আমাদের একটা প্রোগ্রাম আছে এখানে। তাঁরা বাংলাদেশে পাঁচ দিন থাকবে। সে পর্যন্ত যদি মেয়েটি ভালো থাকে তাহলে তাকে ওরা দেখবে।”

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন বলেন, “আমরা ওর (নুসরাত) জন্য দিনরাত কাজ করছি। আপনারা সবাই দোয়া করবেন। মহান সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব হয়ে যায়।”  

তিনি বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা সে ভালো হবেই। পাশাপাশি আমাদের যদি আরও কিছু করার থাকে আমরা তাও করব। যেহেতু মেয়েটিকে দেশের বাইরে নেয়া যাচ্ছে না, তাই আমরা তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টগুলো সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালকে জানিয়েছি তাদের রিপোর্টগুলো পাঠাচ্ছি।”

নুসরাত এবার সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম (এইচএসসি সমমান) পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। তিনি সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের মাওলানা এ কে এম মুসা মানিকের মেয়ে। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়।

গত ০৬ এপ্রিল (শনিবার) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মাদ্রাসা ভবনের ছাদে দুর্বৃত্তরা তাঁর গায়ে আগুন দেয়। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এস এম সিরাজউদ্দৌলা গত ২৭ মার্চ নুসরাত জাহানের শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। নুসরাত বিষয়টি বাসায় জানালে তাঁদের মা সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। ওই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সোনাগাজী থানা পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেফতার করে।

এরপর মামলা প্রত্যাহারের জন্য নুসরাতকে চাপ দেয় সিরাজউদ্দৌলার লোকজন। কিন্তু নুসরাত অপারগতা প্রকাশ করেন। এই অবস্থায় আলিম পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ভাই নোমান নুসরাতকে পরীক্ষার হলে বসিয়ে দিয়ে আসতেন। গতকাল তিনি তাই করেন।

এমবি