ছাত্রলীগ নেতা মেহেদী হাসান অসুস্থ দাবি করে পরীক্ষা বন্ধের জন্য রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সাংস্কৃতি বিভাগে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের ৫নম্বর কোর্সের চুড়ান্ত পরীক্ষা নেয়ার জন্য একাডেমিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে করে পুর্ব ঘোষিত নির্দ্দিষ্ট সময় থেকে ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে পরীক্ষা নেয়া শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মেহেদী হাসানও ওই বিভাগের মাস্টার্সের পরীক্ষার্থী ছিলেন। কিন্তু তার প্রস্তুতি না থাকায় তিনি অসুস্থতার কথা বলে পরীক্ষা বন্ধ করতে বিভাগকে অনুরোধ করেন।
কিন্তু একাডেমিক বৈঠকের সিদ্ধান্ত হওয়ায় এক জনের জন্য পরীক্ষা না পিছানো কথা বিভাগ থেকে জানিয়ে দেয়া হয়। এতে মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রানা চৌধুরী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পদক ও পরিবেশ বিষয়ক সম্প্রাদক মুসতাকিম বিল্লাহ এই তিন জনের নেতৃত্বে ২০-২৫জন নেতাকর্মী ভবনের ২০৪ নম্বর কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। এসময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিক্ষকাদের লাঞ্চিত করে।
এসময় তারা পরীক্ষা দিতে আসা অন্য শিক্ষার্থীদেরকেও পরীক্ষা না দেয়ার জন্য হুমকি দেয়। তবে এখন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে না এবং অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য পরীক্ষা স্থগিত করে দেয়া হয়েছে বলে বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি রানা চৌধুরী বলেন, আমাদের এক বন্ধু অসুস্থ হওয়ায় বিভাগে এসে আমরা পরীক্ষা পেছানোর জন্য বলি। কিন্তু তারা আমাদের কথা শোনেনি। তবে তালা দেয়ায় বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
ইসলামের ইতিহাস ও সাস্কৃতি বিভাগের সভাপতি সৈয়দা নূরে কাসেদা খাতুন বলেন,  এক শিক্ষার্থী অসুস্থতার কথা বলে আজকের পরীক্ষা বন্ধ করতে বলেছিল। তবে আমরা পরীক্ষা বন্ধ করিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বেশ কিছু ছেলে এসে পরীক্ষার কক্ষে তালা ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এবং অনেক শিক্ষককে তারা লাঞ্চিত করে। এদের মধ্যে অনেকেই ছিল যারা আমাদের ছাত্র নয়।
তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী অসুস্থ থাকতেই পারে। এজন্য পরীক্ষা তো বন্ধ রাখা ঠিক নয়। যে পরীক্ষা দিতে পারবে না তার জন্য আমরা মানউন্নয়নের ব্যবস্থা করেছি। এমনিতেই তারা অনেক সেশন জটের মধ্যে রয়েছে।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার ২৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনে ছাত্রদের এমন আচরণ দেখিনি। আমরা সব সময় ছাত্রদের ভাল দিক গুলো নিয়ে চিন্তা করি। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আগামীকালের পরীক্ষা এগিয়ে আজ নির্ধারণ করা হয়। আবার তারা এসে আমাদের উপর এমন আচরণ কেমন করে করতে পারল। তাদের আচরণ দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। আমরা শুধু শিক্ষকই নয় একজন অভিভাবকও। লেখাপড়ার পাশাপাশি আমরা নীতি নৈতিকতাও শিখাই। তাহলে কি আমরা তাদের কিছুই শেখাতে পারিনি। এমন বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা বলেন, সমস্যার কারণে যদি শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দিতে চায় তাহলে এটা একান্তই তাদের বিষয়। আর পরীক্ষা বন্ধ বা চালু করার বিষয়টি বিভাগের। এতে ছাত্রলীগে কেউ জড়িত নয় বলে দাবী করেন তিনি।
[b]ঢাকা,এমএইচ, ১৩ মে (টাইমনিউজবিডি.কম)// এসএইচ[/b]