বর্তমান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে-আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়া সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রোববার দুপুরে জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত অভিযোগ অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে অ্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শনিবার একটি রাজনৈতিক দলের রাজশাহী মহানগর কমিটি আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের বরাতে মাননীয় উপাচার্য এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সম্পর্কে যে সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। এসব সংবাদে যা বলা হয়েছে তা বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক নয়।
এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের পর যে সকল শিক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে তা প্রযোজ্য বিধি-বিধান অনুসরণ করে সংবিধি অনুযায়ী গঠিত নির্বাচনী বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদনের প্রেক্ষিতে করা হয়েছে। এই সকল নিয়োগ বোর্ডে সংশিষ্ট বিভাগীয় সভাপতিসহ বহিরাগত বিশেষজ্ঞ সদস্য ও দুই জন সিন্ডিকেট সদস্য থাকেন। উপাচার্য পদাধিকারবলে এই বোর্ডের সভাপতিত্ব করেন মাত্র। নিয়োগের জন্য মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রাপ্ত আবেদনসমূহ বিভাগীয় প্যানিং কমিটিতে যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রদত্ত সুপারিশের সূত্রে নির্বাচনী বোর্ড প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ব অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও প্রকাশনার রেকর্ডসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, সর্বোপরি নিয়োগের সাক্ষাতকারে প্রার্থীর উৎকর্ষতা বিবেচনা করে থাকে। এছাড়া নির্বাচনী বোর্ড মুক্তিযোদ্ধা কোটার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। নির্বাচনী বোর্ডের মতামত গঠনের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ব্যক্তিগত বা সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক মতাদর্শগত অবস্থান বা সংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় বিবেচনা করা হয় না।
বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রলীগের প্রতি বিরূপ আচরণ করা হচ্ছে মর্মে যে অভিযোগ করা হয়েছে তাও সম্পূর্ণ অসত্য বলে উল্লেখ করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রকৃতপক্ষে ক্লাস ও পরীক্ষার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি-বিধান এবং তার অধীনে বিভিন্ন বিভাগের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। ক্লাস ও পরীক্ষার বিষয়ে বিভাগগুলোই সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে থাকে এবং বিভাগের এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলোতে উপাচার্যসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করার অবকাশ নেই। বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীর ফৌজদারী অপরাধের বিষয়গুলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নয় বরং পুলিশ প্রশাসনের এখতিয়ারভুক্ত। কাজেই এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কিছুই করণীয় নেই বলেও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া গত ১৬ তারিখে বিজ্ঞান অনুষদের ডীন ড. হাবিবুর রহমান কর্তৃক আওয়ামী লীগ নেতারা লাঞ্ছিত হয়েছেন- আওয়ামী লীগ নেতাদের এমন অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ডীন প্রফেসর হাবিবুর রহমান। রোববার আলাদা এক বিবৃতিতে তিনি এই প্রতিবাদ জানান।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, উপাচার্যের কক্ষে আমি মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শাহাদৎ হোসেনকে মারার জন্য তেড়ে যাই এবং লাঞ্ছিত করি- এটা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে শাহাদৎ হোসেন আমার পূর্ব পরিচিত হওয়ায় তিনি যখন উপাচার্যের কক্ষে উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলছিলেন তখন আমি তাঁকে শান্ত করার জন্য এগিয়ে যাই এবং তার হাত ধরে শান্ত হওয়ার জন্য অনুরোধ করি। এসময় ডাবলু সরকারসহ আরো কয়েকজন তাকে মারা হয়েছে বলে চিৎকার করতে থাকেন এবং তারাই আমাকে মারতে উদ্যত হন, যেটা বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
বিবৃতিতে ডাবলু সরকার তার ন্যক্কারজনক কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
কেএইচ





