দেশের প্রথম শহীদ বুদ্ধিজীবী, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থানে নিহত তৎকালীন প্রক্টর এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহার মৃত্যু দিবসকে 'জাতীয় শিক্ষক দিবস' ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

সোমবার বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে রসায়ন সমিতির উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

রসায়ন বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী নাসির উদ্দীনের সঞ্চালনা ও রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক মুহাম্মদ মিজান উদ্দিন, প্রো-ভিসি অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সায়েন উদ্দিন, সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক চৌধুরী জাকারিয়া, অধ্যাপক আজহার আলী, অধ্যাপক মো. সায়দুল ইসলাম প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষক প্রফেসর ড. শামসুজ্জোহা ছাত্রদের রক্ষা করতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। ড. শামসুজ্জোহা ১৯৬৭ সালের গণঅভ্যুত্থানকে বেগবান করেছিলেন। তার প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে গোটা দেশ স্বোচ্চার হয়ে উঠেছিল। শহীদ শামসুজ্জোহা কেবল রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেননা, তিনি ছিলেন সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীর নিবেদিত প্রাণ। তিনি সকলের কাছে উদাহারণ হয়ে থাকবেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি দিনটিকে শুধু রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পালনের মাধ্যমে নয় বরং 'জাতীয় শিক্ষক দিবস' পালনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিকট স্মারক পৌঁছানোর জন্য রসায়ন সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিনের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন। এদিকে মানববন্ধনে একাত্বতা ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে প্রক্টর প্রফেসর তারিকুল হাসান, জনসংযোগ প্রশাসক প্রফেসর ইলিয়াছ হোসেন, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রণব কুমারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী উপিস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা।

কেএইচ