রোববার কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভাড়া করা বাসের চাপায় ছাত্র তৌহিদুর রহমান টিটু (২১) নিহতের ঘটনায় সংঘটিত তাণ্ডবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সহপাঠীর ক্ষত বিক্ষত লাশ দেখে কারো মাথা ঠিক ছিলো না তাই তারা এ রকম বিধ্বোংসী কাজ করে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনসহ ৪০টি গাড়িতে আগুন দেন। প্রশাসন ভবন ভাঙচুর করা হয়। সবমিলিয়ে সম্পদের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ কোটি টাকা।
এ ক্ষতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ বিশাল আকারের ক্ষতির জন্য আমরাই দায়ী। এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রচুর সময় ও অনেক অর্থের প্রয়োজন। যা এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে বহন করা
বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। তবে যত দ্রুত সম্ভব আমরা পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে একটি সমাধানে পৌঁছাব।
ওই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ শতাধিক রাউন্ড গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে তিন পুলিশসহ অন্তত ৩০ শিক্ষার্থী আহত হন এবং মামলার আসামী হন হাজার হাজার শিক্ষার্থী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব শাখা সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটসহ গত তিন বছরে ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। এক দিনের তাণ্ডবে ৪০টির মতো বাস পুড়িয়ে দেওয়ায় পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা তাদের ফিটনেস ও লাইসেন্সবিহীন অবৈধ বাসগুলোর ক্ষতিপূরণ দাবি করলে বিশ্ববিদ্যালয় দেউলিয়া হয়ে পড়বে। ক্ষতিপূরণ দিতে না পারলে পরিবহন মালিক সমিতির কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও জিম্মি হয়ে পড়বে।
ইতোমধ্যে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা তাদের গাড়িগুলোর ক্ষতিপূরণ দাবি করে পরিবহন ধর্মঘট, শিক্ষার্থীদের মারধর অব্যাহত রেখেছে। ফলে ক্যাম্পাস বন্ধ হওয়ার পরেও শিক্ষার্থীরা বাড়ি যেতে পারছেন না।
ক্ষতিপূরণ না দেওয়া পর্যন্ত পরিবহন ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে আর যদি ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আগামী দিনে তারা আর ক্যাম্পাসে কোনো গাড়ি ভাড়া দেবেন না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবহন মালিক সমিতি যদি আগামী দিনে আর গাড়ি না দেয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ হাজার শিক্ষার্থীর কপালে দুর্ভোগ ছাড়া আর কিছু জোটবে না। কারণ ক্যাম্পাসে আবাসিক সুবিধা রয়েছে মাত্র চার হাজার শিক্ষার্থীর। আর বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে নিজস্ব গাড়ির সংখ্যা মাত্র ১২টি। যা শুধু শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য বরাদ্দ।
গাড়ি না পেলে প্রতিদিন ক্যাম্পাস থেকে ২২-২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত শিক্ষার্থীরা কিভাবে ক্যাম্পাসে যাতায়াত করবেন- এ প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টি আবসিক না হওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে যাতায়াতের একমাত্র বাহন ছিল ওই গাড়িগুলো। এক দিন অবরোধ থাকলে গাড়ির অভাবে ক্যাম্পাস অচল হয়ে পড়ে। সেখানে সাময়িক উত্তেজনায় গাড়িগুলো এক মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এখন কিভাবে ক্যাম্পাস সচল হবে- এ ভাবনা সবার মুখে মুখে।
ইআর





