ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ঢাবি ও ঢাকা কলেজের ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাবির শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে এই ঘটনা ঘটে। তবে এর কারণ নিয়ে দুই পক্ষ থেকে দুই ধরনের মন্তব্য পাওয়া গেছে।

নিউমার্কেট থানার ওসি আতিকুর রহমান জানান, একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দেয়ার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে এক পর্যায়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা চারুকলা বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে মারপিট করে।

এ সময় চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ ঘটনার এক ঘণ্টা পর ঢাকা কলেজের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী শাহনেওয়াজ হলের সামনে জড়ো হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনাস্থলে থাকা ঢাবির কয়েকজন শিক্ষার্থী দাবি করেন, ঢাবির শাহনেওয়াজ হোস্টেলের সামনে বিজয় কর্নার রেস্টুরেন্ট ঘিরে ঢাকা কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী আড্ডা দিচ্ছিলেন।

এ সময় তাঁরা কয়েকজন ছাত্রীকে নিয়ে বাজে মন্তব্য করেন। চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী শাহাদাত এর প্রতিবাদ করলে তাঁর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এ সময় শাহাদাতকে ঢাকা কলেজের কয়েকজন মারধর করে। এতে তাঁর মাথা ফেটে যায়।

ঢাকা কলেজের আহত শিক্ষার্থী আবীর অভিযোগ করেন, নিউমার্কেটের বিজয় কর্নার এলাকার একটি চায়ের দোকানে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়। চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা হঠাৎ করেই তাদের ওপর চড়াও হয়। তারা নিজেদের এলাকা দাবি করে তাদের ওপর হামলা চালায়।

ঢাকা মেডিকেলের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা জানান, আহত শামীমের পা ভাঙে গেছে। বাকি দুজনের মাথা ফেটেছে এবং শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাত রয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রাব্বানি বলেন, দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঝামেলা হয়েছিল। আমরা প্রক্টরিয়াল টিম পাঠিয়েছি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে নিউমার্কেট থানার ওসি তদন্তের আলোকে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

 

 এএস